নিহত ববি বেগমের স্বজনরা © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিরূদ্দেশ ছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা ওয়াহিদা বেগম (৮০), যিনি ববি বেগম নামেও পরিচিত। অবশেষে নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে ডাকাতদের হামলায় নিহত হওয়ার খবর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবার। জীবিত অবস্থায় নয়, বরং মৃত্যুর পর কবরের পাশেই মিলল হারিয়ে যাওয়া এই নারীর খোঁজ।
রবিবার (১২ জুলাই) বগুড়া থেকে ১৩ জন স্বজন একটি মাইক্রোবাসে করে মেথিকান্দা রেলস্টেশনে আসেন। পরে তারা স্টেশনসংলগ্ন নুরপুর কবরস্থানে গিয়ে ওয়াহিদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন। পরিবার জানায়, ওয়াহিদা বেগমের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ঘন সাগতিয়া গ্রামে। তিনি রহিম উদ্দিন প্রামাণিক ও আনিসা বিবির জ্যেষ্ঠ কন্যা। বাবা-মা দুজনই বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। আট ভাইবোনের মধ্যে সাতজনই জন্মগতভাবে বাকপ্রতিবন্ধী।
স্বামীর মৃত্যুর প্রায় দেড় বছর পর একমাত্র কন্যাসন্তানকেও হারান ওয়াহিদা। এরপর বাবার বাড়িতে ফিরে এলেও প্রায় ২৫ বছর আগে ছোট বোনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তিন বছর পর্যন্ত খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবার অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয়।
গত ৪ জুলাই গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত তার ঘরে ঢুকে জমানো টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় দায়ের করা ডাকাতি ও মারধরের মামলাটি পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। যৌথ বাহিনী এ পর্যন্ত সাকিব মিয়া, ইলিয়াস মিয়া, বিল্লাল মিয়া, দীন ইসলাম ও রিফাত মিয়া নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার নরসিংদীর আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ময়নাতদন্ত শেষে গত বুধবার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নুরপুর কবরস্থানে ওয়াহিদা বেগমকে দাফন করা হয়। আর সেই কবরেই ২৫ বছর পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে খুঁজে পেয়ে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান তার পরিবারের সদস্যরা।
আরও পড়ুন : কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা
ওয়াহিদার ছোট বোনের স্বামী সৈয়কাত ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেকে ভাবছেন আমরা টাকার জন্য এসেছি। তিনি যদি কোনো টাকা রেখে গিয়ে থাকেন, সেটি স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা বা এতিমখানায় দান করা হোক। সেই টাকার ওপর আমাদের কোনো দাবি নেই। ২৫ বছর পর তার কবর জিয়ারত করতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।’
রেলওয়ে পুলিশ ও স্টেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে ওয়াহিদা বেগম মেথিকান্দা রেলস্টেশনে একটি ট্রেন থেকে নেমে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে থাকতেন তিনি। প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার, শৌচাগার পরিষ্কারসহ বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যাত্রী ও স্থানীয়দের দেওয়া সামান্য অর্থও তিনি জমিয়ে রাখতেন।