রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ডহরশংকর এলাকায় স্থানীয়দের বাধায় বন্ধ নির্মাণ কাজ। © টিডিসি
ঝালকাঠিতে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (১০ জুন) সকালে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ডহরশংকর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে নির্মিতব্য সেতুর কাজে শুরু থেকেই নানা ধরনের অনিয়ম হয়ে আসছে। নকশা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুর পাইলিংয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৬০ ফুটের পরিবর্তে মাত্র ১৫ ফুট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ব্ল্যাক স্টোনের পরিবর্তে হোয়াইট স্টোন, সিলেটি বালুর পরিবর্তে স্থানীয় বালু এবং ২০ মিলিমিটার রডের পরিবর্তে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তাদের অভিযোগ, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানির নিচে ঢালাই কাজ করা হয়েছে। যা নির্মাণকাজের মান নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। কাজের সময় উপজেলা প্রকৌশলীর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তার অনুপস্থিতিতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলে ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এসে উল্টো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং একইভাবে কাজ সম্পন্ন করবেন বলে হুমকি দেন।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অবিলম্বে নির্মাণকাজের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এই সেতুর কাজ শুরু করিনি। ঠিকাদার কেন আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছেন, সে বিষয়ে তাকে নোটিশ দিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাসার বলেন, ব্রিজের কাজের আদেশ অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল। যার মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে এবং আমাদের না জানিয়েই তারা কাজ শুরু করে। আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আরও পড়ুন: হামে মৃত শিশুদের ৭১ শতাংশেরই মেলেনি আইসিইউ, হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেছে ৮২ শতাংশ
সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার এবং রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম মৃধা প্রকৌশলীদের বক্তব্যকে অসত্য দাবি করে বলেন, কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমরা মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছি। আরও তিন মাস সময় আমরা পাবো। কাজের লে-আউট করার সময় দায়িত্বরত প্রকৌশলী আবুল বাসারও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাজ কেউ বন্ধ করেনি। ভারী বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমরাই কাজ করিনি। রবিবার ব্রিজের পাইল বসানো হবে।