কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত © টিডিসি ফটো
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে মাথা ও পা-বিহীন একটি অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে সুগন্ধা পয়েন্টের পানির কিনারায় মরদেহটি ভেসে উঠলে প্রথমে সেটি দেখতে পান সৈকতে দায়িত্ব পালনরত বিচ কর্মীরা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
সৈকতে দায়িত্ব পালনরত বিচ কর্মী খোরশেদ জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও রাতে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রের পানির কাছাকাছি অবস্থান না করে নিরাপদ স্থানে উঠে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছিল। এ সময় পানির মধ্যে অস্বাভাবিক একটি বস্তু ভাসতে দেখে তারা কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন সেটি একটি অর্ধগলিত মরদেহ। পরে বিলম্ব না করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই সরোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির মাথা এবং শরীরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন ছিল। দীর্ঘ সময় সাগরের পানিতে ভেসে থাকার কারণে শরীরের অধিকাংশ অংশ পচে গেছে। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে এটি নারী না পুরুষের মরদেহ, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং পরিচিত স্বজনদের খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণেই মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির মরদেহ, নাকি হত্যার পর দেহটি সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে মরদেহের পরিচয় শনাক্তে আশপাশের থানাগুলোর নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য, প্রয়োজন হলে আঙুলের ছাপ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং অন্যান্য ফরেনসিক পদ্ধতির সহায়তা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র সুগন্ধা পয়েন্টে এমন একটি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিড় জমালেও পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে।