সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ
কালীগঞ্জ উপজেলার ৬২নং কিষাণ মজদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ইনসেটে অভিযোগপত্র) © টিডিসি
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ৬২নং কিষাণ মজদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত ৮ শতক জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দখল করা জমিতে ভবন ও দোকান নির্মাণ করায় বিদ্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের একমাত্র পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও অন্যান্য শিক্ষাক্রম।
এ পরিস্থিতিতে দখল হওয়া জমি উদ্ধার, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ উন্মুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম।
এর আগে রবিবার (৫ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেওয়া আবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়টির মোট রেকর্ডভুক্ত জমির পরিমাণ ৩৫ শতক। এর মধ্যে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র ৮ শতক জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, দখল করা জমির ৫ শতকের কাগজপত্র তৈরি করে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা (নং-৩৮৭/২২) দায়ের করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মামলাটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২০৬ জন শিক্ষার্থী ও ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে দখল হওয়া জমিতে ভবন ও দোকান নির্মাণের ফলে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে দৈনিক সমাবেশ, খেলাধুলা এবং স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সরকারি জমি উদ্ধার এবং অবরুদ্ধ প্রবেশপথ দ্রুত উন্মুক্ত করা না হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছি।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’