সিডোর জরিপ

সাতক্ষীরায় ৭৬ শতাংশ নারীই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার শিকার

০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ PM
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ‘যুব নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে এডভোকেসি’ সভা

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ‘যুব নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে এডভোকেসি’ সভা © টিডিসি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাতক্ষীরায় পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৪৭ জন (প্রায় ৭৬ শতাংশ) জানিয়েছেন, তারা কোনো না কোনো সময় অনলাইনে হয়রানি বা ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অথচ ৪৮ জনই জানিয়েছেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় কোথায় অভিযোগ করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

সোমবার (৬ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ‘যুব নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে এডভোকেসি সভায়’ এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অ্যাকশন ফর ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার উন্নয়ন সংস্থা সিডো জরিপটি পরিচালনা করে। এতে সহযোগিতা করেছে একশনএইড বাংলাদেশ।

পরিচালিত এ জরিপে তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পৌরসভা, ফিংড়ী ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে যুব সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ভুক্তভোগী নারী ও কমিউনিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে মোট ৬২টি কী ইনফরমেন্ট ইন্টারভিউ (নারী ৩৮, পুরুষ ২৪) এবং চারটি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে (এফজিডি) ৪৬ জন (নারী ২৩, পুরুষ ২৩) অংশ নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করলেও একই সঙ্গে নারীদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকিরও সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চরিত্রহনন, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে হয়রানির মতো ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

জরিপে অংশ নেওয়া সবাই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্যবহার করেন। এছাড়া ২৫ জন টিকটক, ১৫ জন ই-মেইল, ৮ জন ইমো এবং ৫ জন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। হয়রানির মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ফেসবুক। জরিপ অনুযায়ী, ২০ জন ফেসবুকের মাধ্যমে এবং ৫ জন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ফোন মেসেজ ও ইমোর মাধ্যমেও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।

হয়রানির ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৯ জনের নামে ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে। ১৬ জন অশালীন বার্তা পেয়েছেন। ১১ জনের ছবি বা ভিডিও অপব্যবহার করা হয়েছে এবং সমানসংখ্যক ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জন হুমকি, ৭ জন ব্ল্যাকমেইল এবং ৪ জন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন।

ডিজিটাল সহিংসতার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য। ২৯ জন জানিয়েছেন, তারা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। ২২ জন ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। ১৩ জনের শিক্ষা বা কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ৮ জন আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন এবং ৭ জন সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

জরিপে দেখা গেছে, হয়রানির শিকার হওয়ার পর মাত্র একজন পুলিশকে এবং একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ১৫ জন পরিবারের সদস্যদের এবং ২০ জন বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি ভাগাভাগি করেছেন। একজন শিক্ষককে জানিয়েছেন। তবে ৮ জন কাউকেই কিছু জানাননি।

কেন অভিযোগ করেননি? এমন প্রশ্নে ১৬ জন বলেছেন, প্রতিকার পাবেন বলে বিশ্বাস করেননি। ১৫ জন ভয় পেয়েছেন, ১৪ জন সামাজিক লজ্জার কথা বলেছেন। ৯ জন জানিয়েছেন, কোথায় অভিযোগ করবেন তা জানতেন না। আর ৬ জন পরিবারের বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ৬২ জনের মধ্যে ৪৮ জনই জানিয়েছেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় কোথায় অভিযোগ করা যায়, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কেউই অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নারীদের জন্য ‘খুব নিরাপদ’ মনে করেননি। ২৪ জন বলেছেন, কিছুটা নিরাপদ। অন্যদিকে ২৩ জন এটিকে অনিরাপদ এবং ১৫ জন খুবই অনিরাপদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।অংশগ্রহণকারীদের মতে, সামাজিক কুসংস্কার, প্রযুক্তি সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান, ব্যক্তিগত তথ্য অসতর্কভাবে শেয়ার করা, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ নারীদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, কিশোরী ও তরুণীদের জন্য কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা, যুব নেতৃত্বে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা।

প্রতিবেদনটি বলছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে হলে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

উন্নয়ন সংস্থা সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মমতাজ পারভীন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিক উদ দৌলা সাগর, সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন, সিডোর প্রকল্প সমন্বয়কারী তৌহিদুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, যুব সংগঠক মো. সাকিব হোসেন, মাহফুজ আহমেদ প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী, যুব প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় প্রকল্পের আওতায় গঠিত যুব সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

শিশুর যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিতে ডে কেয়ার সেন্টার বৃদ্ধির তাগিদ …
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে সভায় বসছে শিক…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
সারাদিন অফিসের পর ক্লান্তি দূর করবেন কীভাবে?
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
৭৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : প্রতিষ্ঠার আদ…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
‘ক্লাস’ নিলেন শিক্ষামন্ত্রী, প্রশ্নবাণে জর্জরিত মাউশি ডিজি
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
এডহক কমিটি-অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কলেজের গর্ভনিং ব…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence