খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকা © সংগৃহীত
খাগড়াছড়ির রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলায় পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও একজন আহত হন। এর মধ্যে রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে একজন এবং দীঘিনালায় প্রতিপক্ষের গুলিতে আরেকজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত এ দুই ঘটনায় পার্বত্যাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে রামগড় উপজেলার দুর্গম তৈকাথান এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের সঙ্গে ইউপিডিএফের (প্রসিত) সশস্ত্র সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, নিয়মিত নিরাপত্তা টহলের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সশস্ত্র গ্রুপটির মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ইউপিডিএফের সদস্য ববিন ত্রিপুরা (৩০) নিহত হন। তিনি উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় মংসানু মারা নামে আরেক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি কমল বিকাশ ত্রিপুরা ও তিরবালা ত্রিপুরার ছেলে এবং দাতারাম পাড়ার বাসিন্দা। আহত ব্যক্তি বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সেনাবাহিনী একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করেছে বলেও জানা গেছে।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ্য মারমা ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠনটির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে দমন করতেই সেনাবাহিনী এ ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের জুন মাসের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে, পাবেন কবে?
তিনি আরও দাবি করেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গোলাগুলি ও অস্ত্র উদ্ধারের যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’। তবে এ বিষয়ে সেনাবাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে রামগড় থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) নাজির আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে একই দিনে দুপুর ১টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের দুর্গম মুড়োপাড়া চৌমুহনী রাস্তার মোড় এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর এক কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত সুজন চাকমা (৪৮) উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিনন্দ চাকমার ছেলে।
ইউপিডিএফের (প্রসিত) দীঘিনালা সংগঠক সজীব চাকমা দাবি করেন, সুজন চাকমা একটি দোকানে বসে সাংগঠনিক আলোচনা করছিলেন। এ সময় ৫-৭ জনের একটি সশস্ত্র দল সেখানে গিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার জন্য তিনি জেএসএস (সন্তু) গ্রুপকে দায়ী করেন। তবে এ বিষয়ে জেএসএসের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দীঘিনালার ঘটনায় দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।