হসপিটালে চিকিৎসাধীন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান © টিডিসি ফটো
পাবনার বেড়া পৌরসভায় সি অ্যান্ড বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ী দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান। তিন দিন আগে দুই ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন উপজেলা শ্রমিকদল নেতা রিপন সরদার। সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান। তিন দিনের মধ্যে চাঁদা না পাওয়ায় শ্রমিকদল নেতার লোকজন তুলে নিয়ে যায় ওই ব্যবসায়ীকে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে হাত-পা।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে বেড়া সি অ্যান্ড বি এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়।
আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলহাজ্ব মনজেল খানের ছেলে। তার হোটেল ও গাড়ির ব্যবসা রয়েছে। বর্তমানে তিনি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত রিপন সরদার (৩৫) সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের পাশা সরদারের ছেলে। তিনি সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেড়া পৌরসভার সি অ্যান্ড বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ী দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান। গত ১৯ জুন শ্রমিকদল নেতা রিপন তার লোকজন নিয়ে এসে দুই ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দুই-তিনদিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর চাঁদা না পেয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদার সহ কয়েকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে মিজানুর রহমানকে তুলে পার্শ্ববতী সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরম সরদারের অফিসে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মিজানুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় তার হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। মারধরের ফলে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে পরিবারের দাবি। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত রিপন সরদার, করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরমসহ কয়েকজন তাদের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি তারা আবারও চাঁদা দাবি শুরু করে।
আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের যৌথ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হতো। এর আগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছিল। সম্প্রতি আবার চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে আগে মারছে তাই আমি মারছি। ওরা এর আগে সেনাবাহিনীর কাছে আমাকে নিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু সেনাবাহিনী সেই অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি। বরং ওদেরকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এরপর ওর ভাই আমাকে বলছে, ভাই যা হওয়ার হয়েছে আমরা সমস্যাটা সমাধান করে ফেলি। কিন্তু ওরা এই সমস্যাটা সমাধান করেনি। ওরা এখনো আওয়ামী লীগ আমলের মতো ভাব নিয়ে চলে। আমার লোকজন দুই একটা বাড়িবুড়ি দিয়েছে। এটা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে লাভ নাই। আর চাঁদা ও আংটির কথাটা মিথ্যা, আমি এটা নেই নাই। আর আমি এই ধরনের রাজনীতিও করি না। মূলত ওরা আওয়ামী লীগ করে বলেই আজকে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা আসলেই মামলা নথিভুক্ত করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।