যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু সাহাবীর হোসেন © সংগৃহীত
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করাকে কেন্দ্র করে ১১ মাস বয়সী এক শিশুকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। রবিবার (২১ জুন) সকালে উপজেলার বড় কুল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিশুটিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিশুর নাম সাহাবীর হোসেন। সে ওই গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে।
আসাদুল জানান, তার বাড়ির পাশে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন প্রতিবেশী কুবাদ আলীর ছেলে ইসমাইল (৪০) ও তার স্ত্রী রেক্সোনা (৩৫)। এলাকায় মাদকের অবাধ বিস্তারের কারণে গ্রামের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল এবং যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল। এ ঘটনার জেরে রবিবার সকালে আসাদুল ইসলাম প্রতিবেশী ইসমাইলকে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ইসমাইল ঘর থেকে ধারালো কাঁচি এনে আসাদুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেন। এ সময় আসাদুল নিজেকে বাঁচাতে দ্রুত সরে গেলে কোপটি তার কোলে থাকা ১১ মাসের শিশু সাহাবীরের ডান পায়ে লাগে। এতে শিশুটির পা কেটে মারাত্মক জখম হয়।
ঘটনার পরপরই পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা পলাতক। এদিকে এক বছরের অবুজ শিশুকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, ১১ মাসের একটি শিশু পায়ে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ গভীরভাবে কেটে গিয়েছে। আঘাতটি সরাসরি হাড়ে লেগেছে। শিশুটির পা রক্ষার্থে চিকিৎসকদের টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।