পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা © টিডিসি ফটো
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫ জন। এদিকে, তাদের জন্য রয়েছে ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুজন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এবং নিয়মিত বেতন ভাতা নিচ্ছেন। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে ৭ জনের উপস্থিত নিশ্চিত হওয়া গেছে। কয়েকজন শিক্ষককে অবসর সময় কাটাতে দেখা যায় প্রতিদিন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংক্রান্ত কোনো হাজিরা খাতা প্রদর্শন করতে পারেন নাই শিক্ষকবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমান যথাক্রমে অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, এমপিওবিহীন কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাশাপাশি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার শিক্ষার্থীদের একটি অংশও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, এলাকার দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বর্ষা মৌসুমে সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধনের মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।