মমেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের সামনে রোগীর স্বজনদের অপেক্ষা © সংগৃহীত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত তিন মাসে হাসপাতালটিতে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাকে ‘সন্দেহজনক হাম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসকরা। এ নিয়ে গত ১৭ মার্চ থেকে চলমান এই প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটি একটি ১০ মাস বয়সী ছেলে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। গত ২ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তাকে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল ১২ জুন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকদের ডেথ সার্টিফিকেট অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর কারণ ‘সাসপেক্টেড হামের পাশাপাশি সেপটিক শক, নিউমোনিয়া এবং বাঁ ফুসফুসে পানি জমা (প্লুরাল ইফিউশন)’।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মমেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯ জন রোগী হাম ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি কেউ। বর্তমানে হাসপাতালটিতে সর্বমোট ১০০ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে আজ ১৩ জুন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সর্বমোট ২ হাজার ৬২ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ৯১২ জন। তবে এর বিপরীতে মৃত্যুর হার অর্ধশত স্পর্শ করায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক ও অভিভাবকেরা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘হামে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে আমাদের চিকিৎসকেরা দিনরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশই একদম শেষ মুহূর্তে, যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে, তখন ভর্তি হচ্ছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির ক্ষেত্রেও হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া এবং সেপটিক শকের মতো মারাত্মক জটিলতা ছিল।’
শিশুদের তীব্র জ্বর এবং শরীরে র্যাশ বা গুটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।