যশোর সদর হাসপাতালের ৫০০ মিটারে ২২ ক্লিনিক-হাসপাতাল

১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৮ PM
যশোর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান গেট

যশোর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান গেট © সংগৃহীত

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান গেট ঘিরে মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে ২২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে ২০টিরই হালনাগাদ লাইসেন্স নেই বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া, নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উল্লিখিত পাঁচটিসহ ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের আনুমানিক ৫০০ মিটারের মধ্যে মোট ২২টি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার সব কটিই পাশাপাশি ভবনজুড়ে অবস্থিত। এর মধ্যে ২০ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই বলে যশোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান খুলেই নিজেদের ইচ্ছেমতো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই ভবনে একাধিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। গত মাসে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে দালাল নির্ভর ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে। দুই সপ্তাহ পরই প্রতিষ্ঠান দুটি চালু করে মালিকপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আসা রোগীদের টার্গেট করেই মূলত সরকারি হাসপাতালের সামনেই সারিবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বেসরকারি এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এখানে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নিয়মনীতি ।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি হাসপাতালের সামনে হওয়ায় সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। নিম্নমান ও অনুমোদনহীন এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিয়োগ করা দালালের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। একই ভবনে গড়ে ওঠা একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করে থাকনে। তারা রোগীর নিয়মিত অপারেশনসহ সব চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। প্রাইভেট চেম্বারে বসে প্রতিদিন আয় করছেন মোটা অংকের টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার কোনো পরিবেশ নেই। দালালের উপর ভর করেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানকার নিয়োগকৃত দালালরা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে এখানে আনার পর গলাকাটা বাণিজ্য করা হয়। বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট ও ল্যাব টেকনশিয়ান না থাকলেও রোগীদের প্যাথলজি রিপোর্ট হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উন্নতমানের যন্ত্রপাতিও নেই। মূলত রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতানোর ধান্দায় ব্যস্ত রয়েছেন কমটেক কর্তৃপক্ষ।

সূত্রের দাবি, এসব হাসপাতাল গড়ে তোলার পেছনে রয়েছেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কখনো নিজের নামে, কখনো আবার স্ত্রীর নামে এসব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা। আর্থিকভাবে লাভবান হতে তারা একই এলাকায় পাশাপাশি ভবনে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে একই ভবনে একাধিক হাসপাতাল ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গত মাসে ডিএনএন ও পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নজর রয়েছে।

স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাবেন নারীরা…
  • ১৩ জুন ২০২৬
ঈদ-গ্রীষ্মের ছুটি শেষে খুলল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বব…
  • ১৩ জুন ২০২৬
গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই মিস করতে পারেন নেইমার, ব্রাজিলিয়ান গ…
  • ১৩ জুন ২০২৬
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ভর্তিতে দুদিনে কত আবেদন পড়ল
  • ১৩ জুন ২০২৬
ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, পদ ৪৪,…
  • ১৩ জুন ২০২৬
মিডটার্ম পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঢাবি ছাত্র ফাইয়াজ, তা…
  • ১৩ জুন ২০২৬
×