অভিযুক্ত আবু সাঈদ ও সুমাইয়া খাতুন © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
ঘরে থাকা ৪ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ তিন সন্তানকে রেখে স্বামীর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ব্যবসায়ী মো. আল মামুন রুবেল (২৯) ঝিনাইদহ আদালতে দুইজনকে আসামি করে (৬ জুন) একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে মো. আবু সাঈদ (২৪) এবং রুবেলের স্ত্রী মুস. সুমাইয়া খাতুন (২৩)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামের মো. রিপন হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে আল মামুন রুবেলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৮ বছর, ৪ বছর এবং মাত্র ৪ মাস বয়সি তিন পুত্র সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসার কাজে রুবেল বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক আবু সাঈদের সঙ্গে সুমাইয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে পূর্বে গ্রাম্য সালিশও অনুষ্ঠিত হয় এবং আবু সাঈদ ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেকা দেন। তবে এরপরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২ জুন সকাল ১০টার দিকে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে স্থানীয়দের কাছে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন তারা। পরে একই দিন বেলা ১১টার দিকে ঘরে থাকা ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নগদ এবং আনুমানিক ২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, প্রথম স্বামীকে আইনগতভাবে তালাক না দিয়েই সুমাইয়া খাতুন আবু সাঈদকে বিয়ে করে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীর পরিবার বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে আদালতের কাছে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর অভিযুক্তদের পরিবার স্থানীয়ভাবে একটি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। তবে সম্প্রতি ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
ভুক্তভোগী রুবেলের বোন গণমাধ্যমকে জানান, সুমাইয়া খাতুন অনলাইনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্তানদের জন্য কান্নাকাটি করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি বিপদে রয়েছেন। তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এছাড়া অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তাও চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে সুমাইয়া খাতুন স্বেচ্ছায় গিয়েছেন নাকি কোনো ধরনের জিম্মিদশা বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন— তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছে।