কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ১৬ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার © সংগৃহীত
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মো. আবির (১৮) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর সোমবার (১ জুন) ভোরে সৈকতের সমিতিপাড়া এলাকার নাজিরার টেক পয়েন্ট সংলগ্ন বালিয়াড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে গতকাল রোববার (৩১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার পুরান ঢাকার লালবাগের শহীদ নগর এলাকার বাসিন্দা মো. আবির তাঁর নয়জন বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গোসল করতে নামেন। এ সময় তাঁরা সমুদ্রে টিউব ব্যবহার করছিলেন। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের কারণে আবিরসহ দুই বন্ধু টিউব থেকে ছিটকে পড়ে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেন।
ঘটনার পর সৈকতে দায়িত্ব পালনরত সি-সেইফ লাইফগার্ড কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তাঁদের তৎপরতায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আবিরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং রাতেও বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালানো হলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
সি-সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মো. ওসমান জানান, সমুদ্রে স্রোত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ শক্তিশালী ছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইফগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতার কারণে আবির দ্রুত গভীর পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় লোকজন সমিতিপাড়ার নাজিরার টেক পয়েন্টের বালিয়াড়িতে একটি মরদেহ ভেসে আসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে সি-সেইফ লাইফগার্ড কর্মী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিহত আবির পুরান ঢাকার লালবাগের শহীদ নগর এলাকার বাসিন্দা এবং ইলিয়াস মুন্সির ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হওয়ায় পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
এদিকে, পর্যটন মৌসুমে সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসল না করা, লাইফগার্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং সমুদ্রের স্রোত সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রায়ই পর্যটকরা অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। আবিরের এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা ও সতর্কতার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে।