কিস্তির টাকার জন্য প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা, স্বর্ণ লুটের পর বালুচাপা

১৫ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ PM
পিবিআইয়ের হাতে আটক অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম

পিবিআইয়ের হাতে আটক অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম © টিডিসি ফটো

ফেনী সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন ঘরের বালুর স্তুপের নিচে চাপা দেওয়া প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তার (৪০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যার পর লুট করা স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করেছে পিবিআই। কিস্ত্রির টাকা পরিশোধ করতেই স্বর্ণালংকার লুট করে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম। 

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে পিবিআই ফেনীর পুলিশ সুপার উক্য সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম (২৯) ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। 

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে বিকেলে শর্শদি ইউনিয়নের পশ্চিম জেয়ারকাছাড় এলাকায় প্রবাসী মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪৪) নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে যান। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে থাকা বালুর স্তুপের নিচে তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। 

ঘটনার পর নিহতের বড় ছেলে মহরম আলী আরজু বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই নির্মাণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই ফেনীর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামি থানাধীন চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কিস্তির টাকা সংগ্রহের জন্য সে পরিকল্পিতভাবে রিনা আক্তারকে হত্যা করেন। ঘটনার দিন বিকেলে রিনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে গেলে তিনি গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের ভেতরে থাকা বালুর স্তুপের নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। হত্যার পর নিহতের কানে থাকা এক জোড়া স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে মোহাম্মদ আলী বাজারে বিক্রি করেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণের দোকান থেকে ওই দুল উদ্ধার করেছে পিবিআই।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ক্রয়কৃত জমির পাশের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশেই তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ছোট ছেলে রাজু মাকে খুঁজতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরে কর্মরত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে দেখতে পান। মায়ের অবস্থান জানতে চাইলে সাইফুল তাকে ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন এবং কাজের টাকা দেওয়ার বিষয়েও বলতে বলেন। পরে রাজু তার বোনকে বিষয়টি জানালে তারা দুজন নির্মাণাধীন ঘরে গিয়ে বালুর নিচে মায়ের মরদেহ দেখতে পান।

পিবিআই ফেনীর পুলিশ সুপার উক্য সিং বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পিবিআই। গ্রেফতার আসামি সাইফুলকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আদালতে পাঠানোর পর আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।’

কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইনের পাশে হাঁটছিলেন শিক্ষার্থী, ট্…
  • ০৯ জুন ২০২৬
এমন সমতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা লাগবে, যা কোনো শিক্ষার্…
  • ০৯ জুন ২০২৬
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ না দিলে সংসদে আমরণ অনশন করবেন ৪ এমপি
  • ০৯ জুন ২০২৬
সাউথইস্টে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় জেনেটিক ডেটা ব্যবস্থাপনা নি…
  • ০৯ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে লাইভ শপিং পেল আইএসও সনদ
  • ০৯ জুন ২০২৬
সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাকচাপায় ছাত্রদল-যুবদলের ২ নেত…
  • ০৯ জুন ২০২৬