পানিতে প্রায় ডুবে যাওয়া বোরো ধান কাটছেন এক ব্যক্তি © টিডিসি
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিচু এলাকা ও হাওরের হাজার হাজার হেক্টর জমির আধা পাকা ও পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে একদিকে ফসল হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিকসংকট ও বাড়তি খরচে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১০টি উপজেলায় ধান কাটার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
কলমাকান্দা উপজেলায় ৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর হাওর জমির মধ্যে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হলেও প্রায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমি ঝুঁকিপূর্ণ বা নিমজ্জিত রয়েছে। নন-হাওর এলাকাতেও ১৬ হাজার ৪৪৫ হেক্টরের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমি ঝুঁকিতে রয়েছে।
খালিয়াজুরিতে ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৮০ হেক্টরের ধান সম্পূর্ণ ডুবে গেছে এবং বাকি জমির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মদন উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এতে ৭ থেকে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মোহনগঞ্জে প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমির মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে ৪৯৫ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে। পূর্বধলায় ৫৫০ হেক্টর, কেন্দুয়ায় ১ হাজার ৩১০ হেক্টর, আটপাড়ায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ১৪৪ হেক্টর এবং বারহাট্টায় ৫৮২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত বা নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলার গোগ, জালালপুর ও বিষ্ণপুর হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পাকা ও আধাপাকা ধানের ক্ষেত ডুবে আছে পানির নিচে। অনেক কৃষক কোমর কিংবা বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে পানির ঠান্ডা ও গভীরতার কারণে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
কৃষকরা জানান, দেড় হাজার টাকা কাঠা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ক্ষেতেই পাকা ধান কাটার আগেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিরুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরিসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিচু জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলমান।