নিহত নাসিমা বেগম © সংগৃহীত
২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে তিন দিন পর উদ্ধার হওয়ায় বেঁচে ফিরছিলেন মৃত্যুর মুখ থেকে। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। প্রমত্তা পদ্মা কেড়ে নিল জীবন-জীবকার যুদ্ধের ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ নাসিমার জীবন। দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা গেছে, পার্বতীপুরের ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।
ঈদ শেষে গত বুধবার বিকালে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে তারা সবাই ডুবে যান।
কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়।
তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিনদিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি।’
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।