ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলারডুবি
আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলার ডুবে গেলে বেচু মাঝি তলিয়ে যান © প্রতীকী ছবি
ভোলার চরফ্যাশনে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে নদীতে মাছ ধরার সময় ট্রলার ডুবে বেচু মাঝি (৬৫) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় তার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বাবার নিথর দেহ মাছ ধরার জাল ভাসিয়ে রাখতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বয়ায় বেঁধে নিজেরাই নদী থেকে টেনে তীরে নিয়ে আসে। শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরপাতিলা বয়ার চর সংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বেচু মাঝি চর মানিকা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ফারুকী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মজিবল হকের ছেলে। স্ত্রীসহ তার সংসারে চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বেচু মাঝি তার দুই ছেলে শাহীন (১২) ও শাকিলকে (১৪) সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরতে চর পাতিলা এলাকায় যান। শুক্রবার বিকেলে মাছ ধরার সময় হঠাৎ প্রবল ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে তাদের ছোট ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় বেচু মাঝি ট্রলারের নিচে চাপা পড়ে পানিতে তলিয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তিনি আর উপরে উঠতে পারেননি। তবে তার দুই ছেলে ভাসমান প্লাস্টিক ধরে কোনোমতে পানিতে ভেসে থেকে প্রাণে রক্ষা পায়।
কিছুক্ষণ পর বেচু মাঝির মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে দুই ছেলে সাহসিকতার সাথে বাবার লাশ প্লাস্টিকের বয়ার সাহায্যে তীরে টেনে আনে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত প্রায় ১০টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানো হয়।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্থানীয়রা জানান, বেচু মাঝিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দুর্গত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সমুদ্রে মাছ ধরার জাল ভাসিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয় প্লাস্টিকের বয়া। স্থানীয় জেলে ও বিক্রেতাদের কাছে এসব বয়া পরিচিত ‘পুলুট’ নামে।