জোবে বেগমের কবর খুঁড়ে মরদেহের হাড়গোড় উঠানো হচ্ছে © টিডিসি
মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা একটি কবর। সেখানে শুয়ে থাকা মানুষটির আর কোনো সম্পদ, জমিজমা বা পার্থিব হিসাব-নিকাশ থাকে না। কিন্তু গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঘটল ঠিক তার উল্টো চিত্র। জমিজমা-সংক্রান্ত পারিবারিক বিবাদের জেরে মৃত্যুর ৩৮ মাস পর নিজের বোনের কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ অন্যত্র সরিয়ে নেন বড় ভাই।
রবিবার (৮ মার্চ) সকালে পলাশবাড়ী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশকাটা গ্রামে স্পর্শকাতর এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই পরিবারের বড় ভাই মমতাজ মিয়া ও ছোট বোন জোবে বেগমের (৬০) স্বামী তারা মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় ৩৮ মাস আগে জোবে বেগম মারা গেলে তার স্বামীর নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে বড় ভাই মমতাজ মিয়ার জমিতেই তাকে দাফন করা হয়। তখন কেউ ভাবেনি, সেই কবরই একদিন নতুন করে বিবাদের কেন্দ্রে পরিণত হবে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমি ভাগাভাগি নিয়ে তারা মিয়া ও মমতাজ মিয়ার মধ্যে সম্পর্কের ক্রমে অবনতি ঘটতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, মমতাজ মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম তাদের জমি থেকে ননদের কবর সরিয়ে নিতে বারবার চাপ দিতে থাকেন। সম্প্রতি জমি ভাগাভাগির চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছালেও শর্ত ছিল- জোবে বেগমের কবর সরিয়ে নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ ও শর্তের মুখেই নতি স্বীকার করে নেন জোবে বেগমের স্বামী তারা মিয়া। রবিবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কবর খুঁড়ে মরদেহের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উত্তোলন করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেহাবশেষ উত্তোলনের সময় সেখানে করুণ পরিবেশ বিরাজ করে। পরে সেগুলো পাশের আরেকটি জমিতে আবার দাফন করা হয়। এ সময় জোবে বেগমের সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘জীবিত মানুষদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু মৃত মানুষটাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া—এটা কী ধরনের নিষ্ঠুরতা? এ ঘটনায় আমরা সবাই লজ্জিত।’
পলাশবাড়ী পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহামুদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত অমানবিক, বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক ঘটনা। একজন মানুষ মৃত্যুর পরও এভাবে অশান্ত হবেন, তা কখনোই কাম্য নয়। আমি দীর্ঘদিন এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়েও এত বীভৎস ঘটনা দেখিনি।’
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম খান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে পুলিশ।