কর্নেল অলির পুরোনো বক্তব্যের নতুন করে সমালোচনা

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ PM , আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ PM
জনসভায় কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ

জনসভায় কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ © টিডিসি ফটো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দেওয়া পুরোনো বক্তব্য নিয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ওই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারার টানেল মোড় এলাকায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল ড. অলি বলেন, ‘‘তখন আনোয়ারায় রাস্তাঘাট ছিল না, ছিল আইল। আমি আইলের ওপর রাস্তা করেছি। আনোয়ারার মানুষ উলঙ্গ হয়ে হাঁটা ছাড়া কখনো জুতা নিয়ে হাঁটতে পারেনি, পেরেছে কিনা বলেন।’’

এ বক্তব্যের ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই মন্তব্যটিকে অবমাননাকর ও অসম্মানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আনোয়ারায় বসবাসরত বাসিন্দারা। আনোয়ারা সদরের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন সওদাগর  বলেন, উনি হয়তো উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে আবেগী হয়েছেন। কিন্তু ‘উলঙ্গ’ হয়ে হাঁটা, এটা অপমানজনক শব্দ। উনি আমাদের গরীব বলতে পারতো, তবে সম্মানহানীকর কথা বলার উনার অধিকার নাই।

বরুমছড়া ইউনিয়নের তরুণ ভোটার মোফাচ্ছেল হোসেন তাইফুর বলেন, রাজনৈতিক সভায় অতিথি এসে সাধারণ মানুষকে খাটো করে কথা বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়ন থাকলে সেটা তথ্য দিয়ে বললেই হয়, এ ধরনের ভাষা ব্যবহার না করলেও হত।

প্রবীণ রাজনীতিবীদ আইয়ুব খান বলেন, উনি যে সময়ের কথা বলছেন, তখন মানুষ সভ্যতায় এমন ছিল না। শুধু আনোয়ারা নয়; অথচ উনি পুরো এলাকাবাসীকেই যেন তাচ্ছিল্য করেছেন। এতে মানুষ কষ্ট পেয়েছে।

চায়ের দোকানদার মোজাম্মেল হক বলেন, শহরের পাশ্ববর্তী হওয়ায় আনোয়ারার মানুষ অভাবী ছিলো না। এমনকি সভ্যতার ব্যাপক ছোঁয়াও এ এলাকার মানুষের মধ্যে পড়েছিলো। তারা তখন শহরে গিয়ে বস্তা বিক্রি করে করে আজ কোটিপতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, সাম্প্রতিক এক সমাবেশে কর্নেল অলি আহমদের বক্তব্যে আনোয়ারা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ অপমানিত হয়েছে। তাকে দ্রুত আনোয়ারাবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আনোয়ারাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আনোয়ারায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ড. কর্নেল অলি আহমদের এমন মন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি যারা বিকৃতভাবে ছড়িয়েছে তারা পরে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিকের তার কোনো ভিডিও বক্তব্য নজরে আসেনি। এটি নিয়ে কি মন্তব্য করবো।

অলিপুত্র ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক  বলেন, তিনি যে কথাটি বলেছেন সেটি আজকালের কথা নয়। ৪০-৫০ বছর আগের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গ্রামীণ মানুষকে বুঝানোর অর্থে তিনি কথাটি এভাবে বলেছেন। বিষয়টি আমার কাছে খুবই খারাপ লেগেছে। একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ছড়িয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দুর্ঘটনা, বিমানবাহিন…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবম পে-স্কেলের প্রস্তাবিত গেজেট দেখুন এখানে
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাশেদ খাঁনকে ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস ঘোষণা
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে নতুন ১৫ পরিচালক, অব্যাহতি ১০ জন
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
ঢাবির মেয়েদের হলে প্রবেশের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
আপনি কি ভিসি-প্রোভিসির চেয়েও বড়?—কর্মীকে সিট না দেওয়ায় প্…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬