ভোলায় ‘ভুল রক্ত‘ দেওয়ায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের বিক্ষোভ © টি
ভোলায় ‘ও পজেটিভ’ রক্তের গ্রুপের এক প্রসূতি নারীকে ক্রসম্যাচিং ছাড়াই ‘বি পজেটিভ’ রক্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহত প্রসূতির নাম লামিয়া আক্তার। তিনি ভোলা সদর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবহাওয়া অফিস রোড এলাকার বাসিন্দা মো. শরীফের স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটে শহরের কালিনাথ রায়ের বাজার এলাকায় অবস্থিত বন্ধন হেলথ কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
এদিন সন্ধ্যা থেকে দিনগত রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডায়াগনস্টিকটির সামনে বিক্ষোভ করেন লামিয়ার স্বজনরা। এ সময় নানা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গত বুধবার বিকেলে অন্তঃসত্ত্বা লামিয়া আক্তারকে বন্ধন হেলথ কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
অপারেশনের পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, রোগীর জন্য রক্ত প্রয়োজন এবং তারা রোগীকে ‘বি পজেটিভ’ রক্ত দিতে হবে বলে জানান। স্বজনদের দাবি, লামিয়ার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’ হওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরনের ক্রসম্যাচিং ছাড়াই ডায়াগনস্টিকের কাছে থাকা এক ব্যাগ ‘বি পজেটিভ’ রক্ত তার শরীরে প্রবেশ করানো হয়।
ভুল রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই লামিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত লামিয়ার ভাসুর মো. রাজিব বলেন, “আমরা আগে থেকেই ‘ও পজেটিভ’ রক্তদাতা ম্যানেজ করেছিলাম। কিন্তু তার আগেই ডায়াগনস্টিকের লোকজন আমাদের অজান্তে ভুল গ্রুপের রক্ত দিয়ে দেয়। পরে আমরা ক্রসম্যাচিং রিপোর্ট চাইলে তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলের চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন, ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার কারণেই লামিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এটি পরিষ্কার হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত বন্ধন হেলথ কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি তালাবদ্ধ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ ও মালিকপক্ষ পালিয়ে যায়। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, “ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”