বিএনপির লোগো © সংগৃহীত
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ দক্ষিণ বাজার এলাকায় অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ব্যবসায়িক অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতদের মধ্যে মো. আবু সাঈদ (২৫), আব্দুল গফুর (৩৫), আল-আমীন (২৫) ও রুবেল (৩৫) কে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে আল-আমীনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন তার পাওনা ব্যবসায়িক টাকা আদায়ের জন্য যুবলীগ সহ-সভাপতি সবুজ তালুকদারের মালিকানাধীন একটি মার্কেটে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে না পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: নেই ডিজি, ৫ শাখার দায়িত্বে দুই পরিচালক, সেবা পেতে চরম ভোগান্তি মাউশিতে
এরপর শ্রমিকদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা আলাদাভাবে জড়ো হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষ থামাতে গেলে যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন অভিযোগ করে বলেন, পূর্বের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে যুবদলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, শশীগঞ্জ বাজার এলাকায় গেলে গিয়াস উদ্দিন ও মিজানের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। যার জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইকবাল হোসেন লিটন দক্ষিণ বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে তাদের পক্ষের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।