সীমান্তজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি © টিডিসি
যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৫৫) হত্যাকাণ্ডের পরপরই যশোরের শার্শার বেনাপোলসহ সব সীমান্তজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুর্বৃত্তরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে যশোর জেলার পুরো সীমান্ত এলাকাকে কার্যত কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর নয়নের কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন নিহত হন। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য পালানোর রুটগুলো চিহ্নিত করে যশোর সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেসব সীমান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে নজরদারির আওতায় এনে কার্যত সিলগালা করা হয়েছে। দিন-রাত অব্যাহত টহলের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী সড়ক ও সংযোগ পথগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের চলাচলের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি, যাতে কোনোভাবেই অপরাধীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে সীমান্ত অতিক্রমের সুযোগ না পায়। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।
এ বিষয়ে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা যেন কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আমাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাতেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে সীমান্তে বিজিবির এই কড়া অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।