গাইবান্ধা জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া ৪৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াত প্রার্থী বৈধতা ফিরে পেয়ে পাঁচটি আসনে ২৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে রায় দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার ও শনিবার (২ ও ৩ জানুয়ারি) দুই দিনব্যাপী গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই যাচাই-বাছাই কর্মসূচি পরিচালনা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। প্রথম দিন গাইবান্ধা-১ ও গাইবান্ধা-২ আসনে ৮ জন এবং দ্বিতীয় দিন গাইবান্ধা-৩, ৪ ও ৫ আসনে আরও ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্বাচনী আইন ও প্রক্রিয়াগত জটিলতাই হলো বাতিলের মূল কারণ। রিটার্নিং অফিসার জানান, দলীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, হলফনামা ও সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর অনুপস্থিতি, টিআইএন সার্টিফিকেটে অসামঞ্জস্য এবং ঋণখেলাপি হওয়ার মতো অভিযোগে এসব প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির পরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জমা দেওয়া ১০টি মনোনয়নের মধ্যে ৫টি বৈধ ঘোষিত হয়। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকতা পেশায় থাকার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই আসনে বিএনপির অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এলডিপির শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী দলের পরমানন্দ দাস ও আমজনতা দলের কাওছর আজম হান্নু বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষের হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। বৈধ পাঁচ প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী দলের আহসানুল হক এবং জনতার দলের শাহেদুর রহমান।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। দলীয় কাগজপত্র ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকার কারণে জনতার দলের মনজুরুল হক ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। সাতজন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর নজরুল ইসলাম লেবু, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লবী বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম আওলাদ হোসাইন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দের সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বাকি পাঁচজন বৈধ প্রার্থী হলেন বিএনপির মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতিয়ারুল রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে সর্বোচ্চ ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়ে। দলীয় কাগজে ত্রুটি ও ঋণখেলাপির অভিযোগে গণ অধিকার পরিষদের সামিউল ইসলাম, দলীয় কাগজে স্বাক্ষর না থাকায় সিপিবির শ্রী নিরমল এবং হলফনামা, সমর্থনকারীর স্বাক্ষর ও টিআইএন-সংক্রান্ত জটিলতায় দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। সাতজন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ফারুক আলম সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল ওয়ারেছ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের আজিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী দলের রাহেলা খাতুন, নাহিদুজ্জামান নিশাদ ও এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু।
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে রিটার্নিং অফিসার সব প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক তৎপরতা চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৬ জন। জেলায় মোট ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ৪ হাজার ১০১টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।