অভিযোগ প্রার্থীর

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতার মনোনয়ন বাতিলের পর সরকারি কর্মকর্তাদের হাততালি

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ AM
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ © সংগৃহীত

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনের পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাব ও তাদের সহযোগীরা সক্রিয় রয়েছে। সেই প্রভাবের ফলেই তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর কিছু কর্মকর্তার হাততালির প্রসঙ্গ টেনে ড. আযাদ বলেন, দায়িত্বে থেকে যারা এমন আচরণ করেন, তারা কখনো নিরপেক্ষ হতে পারেন না। এতে প্রমাণ হয়, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির অনুসারীরা সক্রিয়।

ড. আযাদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ের সাজানো ও মিথ্যা মামলাকে সামনে রেখে মনোনয়ন বাতিল করা সম্পূর্ণ অন্যায়। তাঁর হলফনামায় ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ নেই। তা সত্ত্বেও ২০১৩ সালের একটি আদালত অবমাননার মামলাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।

আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, সেটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওই আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল, যা ক্রিমিনাল মামলার আওতায় পড়ে না।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও একই বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনার পর রিটার্নিং অফিসার সেটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি প্রায় দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. আযাদের মতে, সাজা থাকা সত্ত্বেও সংসদে দায়িত্ব পালনকালে আদালত কিংবা সংসদ—কোনো পক্ষই এটিকে নৈতিক বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। একই মামলার ভিত্তিতে এবার মনোনয়ন বাতিল করা একটি নজিরবিহীন ও অন্যায্য সিদ্ধান্ত।

প্রশাসনের আচরণ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে নতুন একটি পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ড লঙ্ঘন করে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশবাসী একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রশ্নহীন নির্বাচন প্রত্যাশা করে। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে দলীয় প্রভাব, পক্ষপাত এবং পুরোনো রাজনৈতিক মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কিত হয়ে উঠবে।

সতর্ক করে তিনি বলেন, পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না করা হলে আসন্ন নির্বাচন জাতির জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আযাদ নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানান। তিনি জানান, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনরায় শুনানির আবেদন ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন।

খুব কঠিন পথে আছি, আপনারা আমাকে হেল্প করুন: চিকিৎসকদের সহযোগ…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
সাতক্ষীরায় তেল সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বাড়ছে ব্যাটারিচা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে, তদন্তে ‘ধী…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
মিরসরাই বসতঘর থেকে অজগর উদ্ধার
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
৯ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন নির্দেশনা জারি
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence