নিহত ইমরান হাশমি রুবেল (বাঁয়ে) ও তার বাবা আব্দুল লতিফ © সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি দিয়ে আর ফেরা হলো না ঘরে। সিঙ্গাপুরে কর্মস্থলে লিফট দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নাটোরের এক যুবক। প্রবাসে উপার্জনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় শোক ও অপেক্ষার প্রহর গুনছে নিহতের পরিবার, আর শতবর্ষী বাবা তাকিয়ে আছেন সন্তানের মরদেহ ফেরার পথের দিকে।
নিহত যুবকের নাম ইমরান হাশমি রুবেল। তিনি লালপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করার সময় লিফটে করে ওপরে ওঠার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ইমরান হাশমি রুবেল। লিফট দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতরভাবে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শোকাহত বাবা আব্দুল লতিফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটা সংসারের হাল ধরেছিল। কাজ করতে গিয়েই আজ সে নেই। এখন শুধু চাই, আল্লাহ যেন আমাকে ছেলের লাশটা শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেন।’
১০০ বছরের জীবনে বহু দুঃখ দেখলেও সন্তানের এমন মৃত্যু যেন আব্দুল লতিফকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। চোখে তার শুধুই শূন্যতা, মুখে নিঃশব্দ আর্তনাদ।
এদিকে নিহতের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। প্রবাসে কর্মরত আরেকটি তরতাজা প্রাণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলছে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে।