জেলা স্টেডিয়াম ও মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আসিফ আকবর © টিডিসি
উত্তরবঙ্গের খেলাধুলার পরিকাঠামোকে যুগোপযোগী ও বহুমুখী করে তোলার উদ্যোগ হিসেবে নীলফামারী জেলা স্টেডিয়ামে সিনথেটিক টার্ফ বসিয়ে একই মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চেয়ারম্যান আসিফ আকবর। তার মতে, সিনথেটিক টার্ফ স্থাপন করা হলে দুটি জনপ্রিয় খেলার মধ্যে মাঠ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ক্ষতির ঝুঁকি কমবে এবং স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) নীলফামারী জেলা স্টেডিয়াম ও মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে তিনি মাঠগুলোর মানোন্নয়ন, ব্যবহারযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে পর্যালোচনা করছেন।
আসিফ আকবর বলেন, ‘স্থায়ী উইকেটে ফুটবল খেললে উইকেট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু সিনথেটিক টার্ফ বসানো হলে ফুটবল ও ক্রিকেট—উভয় খেলাই স্বাচ্ছন্দ্যে আয়োজন করা সম্ভব হবে। নীলফামারী স্টেডিয়ামে ডরমিটরি, প্রেসবক্স, গ্যালারি ও প্র্যাকটিসের মতো সকল সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে। ফলে জাতীয় লিগ থেকে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট—সব আয়োজন করার সক্ষমতা আছে এখানকার।’
তিনি আরও জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দর কাছে থাকায় দল ও কর্মকর্তাদের যাতায়াত সহজ হবে, যা বড় আয়োজনের জন্য নীলফামারীকে আরও উপযোগী ভেন্যু হিসেবে দাঁড় করাবে।
ফুটবল-ক্রিকেট আয়োজনে সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনএসসি ও ডিএফএ ফুটবল ক্যালেন্ডার সমন্বয় করা হলে মাঠ সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাবে। ফুটবল শিডিউল চূড়ান্ত হলে আমরা উইকেট তৈরির কাজ শুরু করতে পারবো। বাফুফে ও বিসিবি একসাথে বসলে কোনো সমস্যা হবে না। মাঠ ফ্রি থাকলে আমরা ছয়টি বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করতে পারব।’
বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘একাডেমির সুযোগ না পেয়েও যে তরুণরা স্বেচ্ছায় ক্রিকেটে যুক্ত রয়েছে, তাদের জন্য বিনিয়োগ, নতুন দল ও সংগঠকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। শুধু ৪৭ সালের পরের পুরনো ক্লাবগুলোর ওপর নির্ভর করে খেলার উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
এ সময় আসিফ আকবর ৬৪ জেলার পুরনো অ্যাফিলিয়েট দলগুলোকে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে না খেলানোর ফলে নতুন খেলোয়াড় তৈরির ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। বাজেট সঠিকভাবে ব্যবহার ও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান।
নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্ত-সংক্রান্ত অগ্রগতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি কাজ করছে, আমরা আশা করছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।’
পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত খুদে ক্রিকেটার, কোচ এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত লজিস্টিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিসিবি পরিচালক হাসানুজ্জামান, সদস্যসচিব আরমানুল ইসলাম, আম্পায়ার শাকির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য জহুরুল আলম, অ্যাডভোকেট আবু মো. সোয়েমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।