তিস্তা গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

৩১ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৬ AM , আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪৮ AM
নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে বসে আছেন বৃদ্ধা

নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে বসে আছেন বৃদ্ধা © টিডিসি

উজানের ঢলে পানি বাড়তেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে উত্তরের নদী তিস্তা। ফুঁসে ওঠা পানির তোড়ে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার ও সিঙিজানি গ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত কয়েকদিনে দুই গ্রামে শতাধিক পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা, শত একর ফসলি জমি, গাছপালা—সব।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার ও সিঙিজানি গ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। গত কয়েকদিনে ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে অন্তত শতাধিক পরিবার। ভেঙে গেছে তাদের বসতভিটা, গাছপালা ও শত শত বিঘা জমি। নদীতে বিলীন হয়েছে পাট, ভুট্টা ও সবজি ক্ষেত। ভাঙনের মুখে পড়েছে লালচামারের ভোরের পাখি নামক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ভাঙন ঠেকাতে কয়েক মিটার স্থানে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে সিঙিজানি গ্রামের শেষ প্রান্তের কয়েক মিটার স্থানেও। কিন্তু ভোরের পাখি স্কুল থেকে সিঙিজানি গ্রাম পর্যন্ত থাকা পরিবারগুলো পড়েছেন ভাঙনের ঝুঁকিতে। দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে হয়তো নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে এলাকাটি।

নদীতে মাছ ধরতে থাকা লালচামারের আব্দুল ছলিম বলেন, ‘মাসখানেক ধরে ভাঙন চলছে। সেখানে ২৮০টি পরিবারের মধ্যে ১০০টির ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ভেঙে গেছে। আর সিঙিজানিতে ছিল প্রায় ২২০-২৩০টি পরিবার। এখন সেখানে রয়েছে ২০-৩০টি পরিবার। ভাঙনের পর যে যেখানে পেরেছে চলে গেছে।’

ওই একই গ্রামের হামিদা বেগম বলেন, ‘নদী আগে অনেক দূরে ছিল। গত ২-৩ দিনে বাড়ির কাছাকাছি এসেছে। ভেঙে গেলে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কী করে খাব?’ ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চান তিনি।

সিঙিজানি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন একেবারে চুলোর কিনারে এসেছে বৃদ্ধ দম্পতি আব্দুস সামাদ (৮০) ও জরিফুল বেগমের (৭৫)। জরিফুল জানান, ‘নদীর পেটে গেছে আমাদের পাট ও ভুট্টাসহ ৫ বিঘা জমি। শেষে গত দুই দিনে বাড়িতে এসেছে সেই ভাঙন। বাড়িটিও যদি যায়, তবে কী করবেন, কোথায় যাবেন এবং কী করবেন তারা জানেন না।

তিনি বলেন, ‘একে তো স্বামী বৃদ্ধ। তার ওপর সে অসুস্থ। রাতে ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার ভয় লাগে।’ তাই স্বামীকে নিয়ে জেগে থাকেন তিনি। পাশেই বাড়ি আব্দুস ছামাদের ছোট ভাই আবুল হোসেনের। তিনি বলেন, ‘আমারও ৫ বিঘা জমি পাটসহ ভেঙে গেছে নদীতে।’ চিন্তায় অস্থির তিনিও।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক বলেন, সিঙিজানিতে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে তা রক্ষায় ৩৯ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ চলমান রয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে একটি উন্নয়ন প্রকল্প আমরা এরই মধ্যে বোর্ডে পাঠিয়েছি। আশা করি, চলতি সপ্তাহে অনুমোদন হবে।

নাসীরুদ্দীনসহ নেতাকর্মীদের থানায় অবরুদ্ধ করে বিএনপির বিক্ষো…
  • ২২ মে ২০২৬
নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ৮ নেতার নামে মামলা
  • ২২ মে ২০২৬
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির এমবিএ প্রোগ্রাম: দক্ষতা, দৃষ্টিভ…
  • ২২ মে ২০২৬
খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারাল মাদ্রাসাছাত্র ইয়ামিন
  • ২২ মে ২০২৬
৪৫ মণের ‘ঠান্ডা ভোলা’র দাম ১২ লাখ, ‘দাদা ভাই’ ডাকলে সাড়া দে…
  • ২২ মে ২০২৬
চোট এড়াতে জেমিনির সহায়তা নেবেন মেসিরা
  • ২২ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081