ফটকে তালা ঝুলিয়ে নথিপত্রে কারচুপি © টিডিসি
পটুয়াখালীর বাউফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি ছুটির দিনে অফিসের ভেতরে নথিপত্র সাজাতে ব্যস্ত দুইজন অফিস স্টাফ ও তিনজন মাঠকর্মীসহ মোট ৭জন। প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে গোপনে চলছে এই কর্মকাণ্ড৷ মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার হাজিরাবহি'তে সাক্ষরও দেয়া হচ্ছে সেখানে বসেই। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই নথি পাঠানো হচ্ছে অচেনা রিকশা চালকদের মাধ্যমে। এদিকে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে উঠে আসে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ থাকা, প্রধান কর্মকর্তার দিনের পর দিন অনুপস্থিতি, ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে অভিনব কায়দায় জালিয়াতি করারসহ নানা বিষয়ের সুস্পষ্ট অভিযোগ।
এরপরেই নরেচরে বসেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। একদিন পরেই অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা ইসলাম জেসমিনকে বদলি করা হয় এবং কার্যালয়ের ও অধীনস্হ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৯ টি অনিয়মের বিষয় অধিদপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি আগামী ৩০ জুলাই সরেজমিন তদন্ত করবেন৷
সরেজমিনে জানা গেছে, বাউফল উপজেলাতে মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা অফিস গর্ভবতী ও নবজাতকদের কোনো ধরনের সেবা দিচ্ছেন না। মাঠে কাজ করার এবং ভিজিটের তথ্য থাকে ওয়ার্ড পর্যায়ের হাজিরাবহিতে। কিন্তু এখানে তা অনুপস্থিত। তাই তড়িঘড়ি করে এখন ২০২৩ সাল থেকে বর্তমানের হাজিরাবহি পিছনের তারিখে সাক্ষর করতে শুক্রবারে লুকিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এজন্য হেলথ্ ইন্সপেক্টরদের কাছে তিন বছরের হাজিরাবহি তলব করা হয়।
এসময় কার্যালয়ের উপস্থিত একজন অফিস সহকারী 'তালা ঝুলানো প্রসঙ্গে' বলেন, অনেক সময় পশু পাখি ঢুকে পরে তাই এমন করেছেন। আজকের আগে কখনো ছুটির দিনে অফিস করেননি বলেও জানান তিনি৷
ছুটির দিন (শুক্রবার) কেনো অফিস করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত কালাইয়া ইউনিয়নের তিনজন মাঠকর্মী বলেন, 'অফিসের কাজে না। আমাদের এলার্জি তাই ডাক্তার দেখাতে আসছি।'
তলব করে আনা মাঠ কার্যক্রমের হাজিরাবহি জমা রাখছিলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জালাল উদ্দিন। তিনি প্রথমে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানায়। পরে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, 'ম্যাডাম (ডা. সানজিদা) চলে যাবেনতো তাই কিছু ফরমের কাজ ছিলো, সেগুলো করতেছিলেন।' কিন্তু এধরনের কোনো ফরম দেখাতে পারেনি তিনি।
অফিস প্রধান ডা. সানজিদা ইসলাম জেসমিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, 'আজকের (ছুটির দিন) ঘটনা অধিদপ্তরকে জানানো হবে। তদন্ত টিম এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন।