মতলব উত্তরে জুয়ার জমজমাট আসন, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৬ PM
মতলব উত্তর থানা

মতলব উত্তর থানা © সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত জুয়ার জমজমাট আসর বসছে। কৃষক, শ্রমিক, বিভিন্ন পেশাজীবীসহ উঠতি বয়সের যুবকরা এতে সামিল হচ্ছে। জুয়ার আসরের পার্শেই দেদার বিক্রি হচ্ছে মাদক। সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত সটাকী, বাবু বাজার, দশানী, মোহনপুর, এখলাছপুর, সুজাতপুর, নতুন বাজার, কালীরবাজার, সাহেব বাজার, সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী সওদাগর বাড়ী, ছেংগারচরসহ বিভিন্ন গ্রামে জুয়ার আসরে উড়ছে হাজার হাজার টাকা।

মাদকের মতোই জুয়ার ছোবলে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেকে। জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে চলছে পারিবারিক কলহ। উঠতি বয়সী যুবক বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে যত উদ্বেগ অভিভাবকদের। জুয়া বন্ধে পুলিশের তৎপরতা না থাকায় দিন দিন সমাজে এ ক্ষতিকর কর্মের প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কতিপয় রাজনৈতিক নেতা, জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে থাকে। ফলে জুয়া খেলা বন্ধ হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দশানী নদীর পাড়ে জুয়া খেলা হচ্ছে। নদীর আশপাশে বিভিন্ন বাড়িতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। সটাকী বাজার ও কালির বাজারের কয়েকটি দোকানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে জুয়া। নন্দলালপুরের সিরাজ বেপারীর বাড়ি ও আশেপাশের বাগানে জুয়া খেলা হয় রীতিমতো। এ ছাড়া, ইমামপুর, হানিরপাড়, পালালোকদিসহ সব এলাকাতেই কম বেশি জুয়া খেলা হয়। আর এ জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঘটছে সহিংস ঘটনা।
স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছ, ছেংগারচর বাজারের আশ পাশের এলাকায় ৮ থেকে ১০ টি পয়েন্টে বসে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর।

সূত্র মতে, বাবু বাজার এলাকায় সন্ধা থেকেই মধ্যরাত পর্যন্ত চলে জুয়া খেলার আসর। ইয়াবা সম্রাট জনির বাড়িতে বসে জমজমাট জুয়া ও মাদকের আসর। ওই দুটি স্থানে চলে জুয়া খেলা এছাড়াও সাদুল্লাপুর আশ্রয়ন প্রকল্প ও দূর্গাপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে চলে মাদক বিক্রি ও ইয়াবা সেবনের আসর এবং কয়েকটি স্থানেও বসে জুয়ার আসর। অন্যদিকে আশ্রয়ন প্রকল্প গুলো এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত এবং কোথাও সকাল থেকেই রাত অবদি চলে জুয়ার আসর এবং জুয়ার আসরেই চলে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন। প্রকাশ্যে জুয়া মাদকের অবাধ বিস্তার থাকায় এলাকার পরিবেশে বিরুপ প্রভাব পড়ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরির ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে গ্রামের সচেতন মানুষ। এলাকার প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় ভয়ে কিছুই বলার সাহস পাচ্ছেনা বলেও জানায় স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দশানী গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, কিছুদিন আগে রাতের আঁধারে ৫ থেকে ৬ জন জুয়ারিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরর্বতী সময়ে জামিনে এসে, আবার ও জুয়া খেলার আসর বসায় জুয়ারিরা এলাকায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জুয়ারিরা মাদক ও জুয়া খেলার টাকা যোগান দেওয়ার জন্য এসব চুরি করে বেড়ায়।

তারা বলেন, আশে পাশে জুয়া খেলা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের ফলে প্রায় প্রতি রাতেই চলছে ছোট বড় এসব চুরির ঘটনা। এদের জন্য কিছুই নিরাপদ নয়। এ ব্যাপারে এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানকে বিচার দিয়েও কোন লাভ হয়নি।

সচেতন মহল জানান, এখন জুয়া গোপনে খেলতে হয় না প্রকাশ্যেই জুয়ার আসর বসায় জুয়ারিরা সঙ্গে মাদকের আসরও বসে। ফলে এলাকায় অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাদের অভিযোগ, জুয়ারিদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান একেবারে নগণ্য। তাই জুয়া খেলা বন্ধ হচ্ছে না। জুয়ায় হেরে গিয়ে ক্ষতি পোষাতে এবং নতুন করে জুয়া খেলার টাকা জোগাড়ের জন্য জুয়ারিরা ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এলাকাবাসী জানায়, জুয়া বন্ধ হলে চুরি-ডাকাতিসহ সব অপরাধ কমে আসবে।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, জুয়া একটি সামাজিক ব্যাধি। জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে এ ব্যাধি থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত করতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন।

ইনকিলাব মঞ্চ কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে কুবিতে ব…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্ষুদ্র জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে যেভাবে আগ্রাসী হয়েছেন, নির্বাচ…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট …
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা মহিলা জামায়াতের
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডিএমপিতে যোগ দিয়েও ছাত্রদলের পক্ষে সক্রিয় ‘হাদির লাশ নিয়া য…
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রায় ৬ ঘন্টা পর শাহবাগ ছাড়ল বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতা 
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬