করোনায় যশোরে একদিনে দুইজনের মৃত্যু

১৯ জুন ২০২৫, ০৯:৫৬ PM , আপডেট: ২০ জুন ২০২৫, ০৮:২১ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

যশোরে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ৩ বছর পর ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের মধ্যে একজন আমির হোসেন (৬৮)। বুধবার ভোরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর গ্রামের মৃত শেখ মখছেদ আলীর ছেলে। অপরজন ইউসুফ আলী (৪৫)। মৃত ইউসুফ আলী মণিরামপুর উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং গোলাম মোস্তফার ছেলে। 

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বজলুর রশিদ টুলু।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ফের করোনার দাপট শুরু হওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে যশোর। জনগণ সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউ সেবাসহ সব ধরনের মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।  বর্তমানে ২২শ’ করোনা টিকা মজুদ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন সার্জারি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আমির হোসেন। তিনি মডেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোববার তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকের নির্দেশে সোমবার নমুনা পরীক্ষা করলে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রেফার্ড করেন। ১৩ জুন ইউসুফ হোসেন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর পরীক্ষা করার পর তিনি করোনা পজেটিভ হন। মারা যাওয়া দুজনই  শ্বাসকষ্ট ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতালে ভর্তি ছিল এমন দুজন করোনা রোগী মারা গেছেন। দুজনই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি আরও জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আলাদা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। আক্রান্তদের সকল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক বলেন, প্রথম পর্যায়ে করোনায় চরম ঝুকির মধ্যে ছিল যশোর। করোনা বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। শেষ মৃত্যু হয়েছিল ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে। দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে আমির হোসেন নামে একজন মারা গেছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, যশোর জেলায় মোট ৩ জন করোনায়া আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বেসরকারিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরমধ্যে দুইজন মারা গেছেন। ৩ বছর পর যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুইজন রোগী মারা গেলেন। যশোর জেলা আবারও করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।  সকলকে অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা, হাসি-কাশির সময় নাক মুখ ঢেকে রাখাসহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। 

সিভিল সার্জন আরও জানান, বর্তমান ২২শ’ করোনার টিকা মজুদ রয়েছে। যশোর পৌরসভার মাধ্যমে মানুষ এই টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। মন্ত্রনালয়ে কিটের চাহিদপত্র পাঠানো হয়েছে। শিগগির কিট পেয়ে যাবেন। আগামী সপ্তাহ থেকে যবিপ্রবিতে করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে।

যবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ জানান, যবিপ্রবি করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে যশোর জেলার সিভিল সার্জনকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কীট সরবরাহের বিষয়ে অবগত করেছি। কীট সরবরাহ করলেই আমরা করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে।

আন্তর্জাতিক মান ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে শেকৃবির নতুন ওয়েব…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
সমাজের অস্থিরতা দূর করতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহনশীলতা প…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
সমাজে বৈষম্য ও অস্থিরতা দূর করতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহন…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শিবির-ছাত্রদলের হাতাহাতি
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বেসামরিক ৩৪২ পদে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে ‘রোবোফিশন ১.০’-এর নিবন্ধন
  • ০২ আগস্ট ২০২৬