প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ফরিদপুর শহরতলির হোগলাকান্দি গ্রামে মোবাইল ফোনে লুডু (জুয়া) খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ইজ্জল শেখ (৪৪) নামের এক যুবককে মারধরের পর বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ জুন) রাতের এ ঘটনার পর রোববার (৮ জুন) রাতে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
নিহত ইজ্জল শেখ সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঈদের দিন শনিবার দুপুরে কানাইপুরের হোগলাকান্দি বাজারসংলগ্ন নদীর তীরে মোবাইল ফোনে লুডু খেলেন ইজ্জল শেখ ও স্থানীয় হানিফ শেখ। খেলা শেষে হানিফ শেখ তার মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে ইজ্জলকে ডেকে এনে মারধর করেন। পরে ইজ্জল মোবাইলটি খুঁজে পেয়ে ফিরিয়ে দেন। এরপর বিকেলে আবারও হানিফ ও তার সহযোগীরা ইজ্জলকে মারধর করেন।
কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা ইজ্জলকে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছিল। রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হানিফ শেখ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের বোন ফরিদা খাতুন বলেন, “আমার ভাই মারা যাওয়ার আগে কারা তাকে মারধর করেছে, সে তা লিখে গেছে।”
নিহতের স্ত্রী নবীরন বেগম অভিযোগ করেন, “আমার স্বামীকে মারধরের পর মুখে বিষ ঢেলে নদীতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখন হত্যাকারীরা মীমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন বলেন, “ইজ্জল শেখের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশকে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মারধর ও হত্যার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”