খামারির কথামতো দাঁত দেখায় ও কাঁদে ২০ মণ ওজনের ‘সম্বল’

০৩ জুন ২০২৫, ১২:১৫ PM , আপডেট: ০৩ জুন ২০২৫, ০৭:০৯ PM
খামারি আদর করে প্রিয় পশুটির নাম রেখেছেন সম্বল

খামারি আদর করে প্রিয় পশুটির নাম রেখেছেন সম্বল © টিডিসি ফটো

এবার নাটোরে কোরবানির হাট কাঁপাতে প্রস্তুত জেলার বিশাল গরু ‘সম্বল’। ২০ মণ ওজনের এই গরু লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার স্টেডিয়াম পাড়ার খামারি রনি ইসলামের ভান্ডারি ডেরি এগ্রো ফার্মে লালিত-পালিত হচ্ছে। চার বছর বয়সী সম্বলকে নিজের সন্তানের মতো আদর, যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছেন রনি ও তার মা। তাই আদর করে প্রিয় পশুটির নাম রেখেছেন সম্বল।

মানুষ ও প্রাণীর মধ্যেও যে সম্পর্ক ও গভীর ভালোবাসা তৈরি হতে পারে, তা রনির গরুকে দেখলে বোঝা যায়। এবার কোরবারি উপলক্ষে সম্বলকে বিক্রি করবেন রনি। আর তা কেনার উদ্দেশ্যে ভিড় জমাচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ক্রেতারা। রনি তার গরুর দাম চেয়েছেন ৬ লাখ টাকা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরুর বাজারদর একটু কম থাকায় এ দাম চেয়েছেন তিনি।

খামারি রনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, এটি আমার বাড়ির বাছুর আদর করে নাম রেখেছিলাম সম্বল। চার বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো আদর-ভালোবাসা ও মায়া-মমতা দিয়ে বড় করেছি। যখন ছোট ছিল, তখন নাম ধরে ডাকলেই ঘর থেকে বেরিয়ে চলে আসত। এখন বড় হওয়ার পর ভালোবাসা যেন আরও গভীর হয়েছে।

আরও পড়ুন : প্রাথমিক ও সরকারি-বেসরকারি কলেজে আজ থেকে ছুটি শুরু

আশ্চর্যের বিষয় হলো, সম্বল তার মালিকের কথাও শোনে। যা করতে বলে তা-ই করে দেখায়। রনি বলেন, যদি আমি বা আমার মা তাকে দাঁত দেখাতে বলি, সে তার দাঁত দেখায়। যদি আদর করে চুমু দিতে বলি, সে চুমু দেয়, উঠতে বললে ওঠে, সুন্দরভাবে শুতে বললে শুয়ে পড়ে।

রনির মা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার গোয়ালে জন্ম নেওয়া গরুটিকে ছোট থেকে আদর, ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে লালন-পালন করেছি। তাকে আমরা পরিবারের সদস্যদের মতো বড় করেছি। প্রতিদিনের দেওয়া খাবার কম হলে রেগে যায় সম্বল। আবার রাতে মশা কামড় দিলে টিনের চালে লেজ দিয়ে ‘ঠাস ঠাস’ শব্দ করে জানান দেয়।

আবেগাপ্লুত তিনি বলেন, যেদিন গরুটি বিক্রি হবে, যেদিন ওকে নিয়ে যাবে, সেদিন আমি বাড়িতে থাকতে পারব না। গরুটি আমার খুবই আদরের। এর মা আরও কয়েকটি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। কিন্তু কোনোটি সম্বলের মতো বড় আকারের হয়নি। প্রতিদিন এটি গমের ভুসি, খুদ চালের ভাত ও রান্না করা ভুট্টা, ঘাস, লতাপাতা খাওয়ানো হয়।

আরও পড়ুন : আজ থেকে যেসব এলাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা

লালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা ও পরামর্শে প্রাকৃতিক উপায়ে ষাঁড়টি পালন করা হচ্ছে। ষাঁড়টির ওজন প্রায় ২০ মণ। প্রাকৃতিক উপাদানের মোটাতাজাকরণ ষাঁড়টি তার কাঙ্ক্ষিত দাম পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া খামারি রনির সাফল্য কামনা করেন এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার ২১৫টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা মতো। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদনে খামারিদের প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। খামারি রনির গরুটি সবচেয়ে বড়র মধ্যে একটি। তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।

অটোরিকশায় মাইকিং করে হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
মিরপুর টেস্ট দেখা যাবে বিনামূল্যে
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৮ পদে শিক্ষক নিয়োগ দেবে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
জুমার দিন আসরের পর যে আমল ও দোয়ার ফজিলত অনেক
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ডিজিটাল বিমাসেবা সম্প্রসারণে সোনালী লাইফ ও নগদের চুক্তি
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ইসলামী আন্দোলনের মনোনয়ন নিয়ে করেছেন চেয়ারম্যান নির্বাচন, এব…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬