গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার ও সন্ধানের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন © টিডিসি ফটো
আন্তর্জাতিক গুম সপ্তাহ উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার ও সন্ধানের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ মে) সকাল ১০টায় শহরের খুলনা রোড মোড়ে শহীদ আসিফ চত্বরে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ সাতক্ষীরা শাখার ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও অধিকার সাতক্ষীরা শাখার রাইটস ডিফেন্ডার অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ। সঞ্চালনা করেন অধিকার সদস্য ও সাংবাদিক ফিরোজ হোসেন।
এ সময় বক্তব্য দেন ২০০৬ সালে গুমের শিকার ডা. মুখলেছুর রহমানের বাবা শেখ আব্দুর রাশেদ, ২০১১ সালে নিখোঁজ হওয়া যুবদল নেতা আবু সেলিমের ভাই ও আলীপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম, আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকবর আলী, অধিকার সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ঢালী, শ্রমিক দল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, সাংবাদিক আবু বক্কর ও সাংবাদিক শাহজাহান আলী মিটন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গুমের ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত। তারা বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারও কারও লাশ উদ্ধার হয়েছে, আবার কেউ কেউ ফিরে এলেও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

গুমের শিকার ডা. মুখলেছুর রহমানের বাবা শেখ আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘২০১৬ সালের ৪ আগস্ট আমার ছেলেকে থানার হাজতে আটকে রেখে গুম করে তৎকালীন ওসি এমদাদ। এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাইনি। আমি সরকারের কাছে আমার সন্তানের সন্ধান চাই।’
বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘২০১১ সালের ২৯ মে ঢাকা থেকে আমার ভাই আবু সেলিমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। আজও সে নিখোঁজ। আমরা তার সন্ধান চাই।’
মানববন্ধনে অধিকার সাতক্ষীরার পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা।
২. যারা এখনো ফিরে আসেননি, তাদের পরিবার যেন ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি পরিচালনার আইনি অধিকার পায়।
৩. গুমের শিকার ব্যক্তিদের কোনো কেউ ভারতে আছেন কি না, তা জানতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা।
৪. গুমের পর ফিরে আসা অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি প্রদান।
৫. গুমের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং গুমের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।