© টিডিসি ফটো
দেশে আয়ের ৯০ শতাংশ টাকা পাঠিয়েও প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অভিবাসী নারীরা। বিদেশে বেশিরভাগ বাংলাদেশি নারীকর্মীরা যৌন, শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কর্মস্থলে এভাবেই নানারকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ করতে হয় অভিবাসী নারী শ্রমিকদের।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে রিফিউজি এন্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গতি ও প্রকৃতি-২০১৯ অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ শীর্ষক গবেষণাভিত্তিক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, ২০১৬ সাল থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী দেশ হিসেবে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান সপ্তম। অভিবাসী নারী শ্রমিকরা পুরুষ অভিবাসী শ্রমিকদের চেয়ে কম উপার্জন করলেও তারা তাদের আয়ের ৯০ শতাংশ টাকা দেশে পাঠিয়ে দেন। সেখানে পুরুষ শ্রমিকরা পাঠান ৫০ শতাংশ।বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা নিজের ভাগ্য বদলাতে চাকরি করতে বিদেশ যান। দেশের জন্য বয়ে আনেন বৈদেশিক মুদ্রা। আর অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়ে হয়েছেন নিঃস্ব।
রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যে দেশে অভিবাসী নারী শ্রমিকরা গৃহকর্মী হিসেবে যাচ্ছেন তাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা এসব সমস্যায় পড়ছেন। ফলে তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৪৩০ জন নারী কর্মী কর্মের উদ্দেশ্য বিদেশ যায়। ডিসেম্বর মাসে নারী অভিবাসনের এই গতি অব্যাহত থাকলে ২০১৮ সালের তুলনায় করলে এটি ৪.৫২% বেড়ে যাবে। রামরু-র এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নারী কর্মীদের গড় বয়স ২৭ বছর। তাদের মধ্যে ৭০ভাগ বিবাহিত, ৩০ ভাগের মতো তালাকপ্রাপ্ত এবং বিধবা। এছাড়া ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৫৮ হাজার ২৮৩ জন নারীকর্মী সৌদিআরবে অভিবাসন করেছে। এ বছরে নিগ্রহের শিকার হয়ে বেশকিছু নারী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ হাজার ১৭৭ জনর নারী কর্মীকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের দালালের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। এদের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয় ৮ হাজার ৬৩৭ জনকে। ২০১৯ সালের এখন ১০ মাসে রিয়াদে বাংলাদেশের দূতাবাসে ১ হাজার ২০৬ জন নারী কর্মীকে রাখা হয়। যাদের মধ্যে ১৩ জন অসুস্থ ছেলে এবং ১৬ জন গর্ভবতী ছিলাে।
সৌদি আরবে নারী কর্মীরা মানসিক, শারীরিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া লাশ হয়েও দেশে ফিরে এসেছেন বেশকিছু নারী। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ফেসবুকে ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নির্যাতনের কথা জানান বাংলাদেশের সুমি আক্তার। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া পাশবিক নির্যাতনের কথা ভিডিও লাইভে এসে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। পরে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।