সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই মাসের মতো সময় অতিবাহিত হলেও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন।
দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে গত দু্ই মাস যাবত তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মানববন্ধনও করছেন। ১৪ মে, সোমবার ফের রাজধীনার শাহবাগে প্রায় ৬ ঘন্টা যাবত অবরোধ কর্মসূচিও পালন করছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, সংসদে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন তা শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হোক। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এতো সময় দরকার হয় না বলে তারা মনে করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিগগিরই এর একটা সমাধান হবে।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও কোটা বাতিলের কথা বলেছেন। তার কথায় আস্তা রাখা উচিত। কারণ প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা ব্রেক করেন না। একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশসহ ৫ দফা দাবিতে চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসে মাঝামাঝি সময়ে আন্দোলন শুরু করে তারা। গড়ে তুলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি প্লাটর্ফমও। এর নেতৃত্বে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, তাদের আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে গত ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। পরে আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলন থেকে সরে আসলেও সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করার অনুরোধ করেন।
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে অন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। যতক্ষণ কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হবে না ততক্ষণ এ আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিল করা হোক। আর সরকার যদি কোটা রাখতে চায় তাহলে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখতে পারে, তার বেশি নয়।