কোথায় আছেন তসলিমা নাসরিনের সেই প্রকাশক?
- টিডিসি ডেস্ক
- প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:২৮ PM , আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:৫০ PM

অমর একুশে বই মেলায় তসলিমা নাসরিনের বই রাখা ও বিক্রির অভিযোগে মেলার ১২৮ নম্বর স্টল ভাঙচুরের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশক সানজানা মেহেরানা মেলাপ্রাঙ্গণে থাকলেও স্টলে ছিলেন না তিনি। তিনি এখন কোথায় অবস্থান করছেন এ বিষয়ে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইমেলায় তার উপর হামলা হতে পারে, এই আশঙ্কা ছিল বলেই সোমবার রাতে হামলার সময় সনজানা মেলাপ্রাঙ্গণে থাকলেও স্টলে ছিলেন না। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরাই সরিয়ে নিয়ে যান তাকে। কিন্তু স্টল বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তার স্বামী শতাব্দী ভব। শেষ পর্যন্ত দোকান বন্ধ করে তাকে যখন বার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, সে সময় ফের ভবর উপর চড়াও হন একদল মানুষ। পুলিশ না-থাকলে তিনি কতটা অক্ষত থাকতেন, সে বিষয়ে সন্দিগ্ধ সনজানা-ঘনিষ্ঠেরা।
সানজানা জানিয়েছিলেন, প্রতি বছর তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশ বইমেলায় ফি-বছর সেই বই বিক্রিও হয়। সে দেশে তসলিমার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় অল্পবিস্তর হুমকিও পেতে হয়। কিন্তু কোনও দিনই তা মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। এ বছরও তিনি প্রকাশ করেছেন তসলিমার বই। তার পর থেকেই একের পর এক হুমকিবার্তা আসছে তার কাছে। নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও সানজানা দাবি করেছিলেন, আগামী শুক্রবার আরও একটি বই প্রকাশ পাবে তসলিমার।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বইমেলায় তাদের প্রকাশনা স্টলের সামনে এক দল মানুষ জড়ো হয়ে ধিক্কার দিতে থাকেন। সে সময়ই স্টল ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ঘোলা হতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে শতাব্দী ভবকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত তিনি পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু সনজানা কোথায়? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গোপন আস্তানায় নজরবন্দি। বাইরে পা রাখতে পারছেন না। সব কাজ আটকে গিয়েছে তার। বাংলাদেশ বইমেলার মেয়াদ চলতি মাসের পুরোটাই। সব্যসাচী প্রকাশনা সংস্থা কি পরে আবার খুলবে? সেই উত্তর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পরে অমর একুশে বইমেলায় নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বই রাখা ও বিক্রির অভিযোগে স্টল ভাঙচুর করা হয়েছে। লেখিকার ‘চুম্বন’ বই রাখার অভিযোগে স্টলটি ভাঙচুর হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। স্টলটির নাম সব্যসাচী। এটি বই মেলার ১২৮ নম্বর স্টল।