ধরা পড়া ছুরি মাছ দেখছেন দর্শনার্থীরা © সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে শীতকালীন মৌসুমে জেলেদের টানা জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১০৯ মণ ওজনের ছুরি মাছ। সৈকতে ফেরার পর মাছগুলো দেখতে জন্য পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। খুশির আমেজ বইছে টেকনাফ উপকূলের জেলে পরিবার গুলোতে ।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টার সময় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মৌলভী হাফেজ আহমদ এর মালিকানাধীন জালে টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে মাছ গুলো ধরা পড়েছে ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে এক জেলের টানা জালে ফাইস্যা ও ছোট-বড় ছুরি মাছ আটকা পড়ছে । সাগর থেকে জেলেরা মাছ তোলার সাথে সাথে এসব মাছ ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করছেন পাইকারী ক্রেতাদের কাছে। পাইকারী ক্রেতারা কিছু মাছ বাজারে তুললেও বাকীটুকু পাঠিয়ে দিচ্ছেন শুটকি মহালে। এতে করে জালের মালিক ও জেলে সহ লাভবান হচ্ছেন মৎস সংশ্লিষ্ট উপকূলবাসী।
জেলে নৌকার মাঝি মো. ইসলাম বলেন, আজ আমাদের জালে প্রায় ১০ লাখ মাছ উঠেছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি। এই খবরে পরিবারের সবাই আনন্দিত। অনেক দিন সাগরে মাছ পাচ্ছিলাম না। অভাবের কারণে অনেক জেলেকে কিস্তিতে সংসার চালাতে হয়েছে। আজ আল্লাহ চাইলে সেই কিস্তি পরিশোধ করতে পারব। যদি এভাবে কয়েক দিন মাছ পাই, তাহলে আমাদের আর অভাব–অনটনে থাকতে হবে না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার জালের মালিক মৌলভী হাফেজ আহমদ জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় আজ হঠাৎ করে সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। আমার এক জালে ১০৬ মণের বেশি মাছ ধরা পড়ছে। বিক্রি করা হলো ১০ লাখ টাকায়। অন্যান্য বছরের চেয়ে এই বছরের শুরুতে জালে প্রচুর পরিমানে মাছ ধরা পড়ছে। প্রতিদিন মাছ ধরা পড়ায় উপকূলের জেলেরা খুব আনন্দে দিন কাটাচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম বলেন, আজ টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে এক জেলের জালে ১০৬ মণের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির ছুরি মাছ ধরা পড়েছে। চুরি মাছ দিয়ে সাধারণত প্রচুর শুটকী উৎপাদন হয় টেকনাফে। শীতের মৌসুমী চুরি মাছ সাগরের প্রজনন বেশি হয়। মাছের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময়ে ৬৫ দিন সাগরে সব ধরণের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।