গাইবান্ধায় মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৮ PM
গাইবান্ধায় মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

গাইবান্ধায় মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি © টিডিসি ফটো

স্বাদে ভরা রসমঞ্জুরীর ঘ্রাণ, চরাঞ্চলের ভুট্টা-মরিচ গাইবান্ধার প্রাণ— এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার কৃষকরা। উত্তরাঞ্চলের নদীবেষ্টিত এ জেলার বুকে তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর চরে চরে এখন মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজ গাছের ফাঁকে ফাঁকে টকটকে লাল ও সবুজ কাঁচা মরিচের সমারোহ দৃষ্টি কাড়ে সবার।

জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, হাইব্রিড সহ বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষে এ বছর ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। মরিচের ভারে অনেক গাছ নুয়ে পড়েছে, যা কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মরিচ সংগ্রহ করে বিকেলে বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

জেলার গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ বছর মরিচের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলা মরিচের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পলি ও বেলে-দোআঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানে ফলনও হয়েছে ভালো। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে, বেড়েছে উৎপাদনও।

সরেজমিনে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের হাজীরভিটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষক জসিম উদ্দিন তার এক বিঘা জমির মরিচ ক্ষেত থেকে মরিচ তুলছেন। তিনি জানান, তার এখানে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন। তবে কৃষি অফিস থেকে তেমন সহযোগিতা না পাওয়ার কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে, নারী শ্রমিক রাহেলা বেগম বলেন, ‘জমিতে কাজ করে সন্ধ্যায় ৩০০ টাকা মজুরি পাই। সেই টাকা দিয়ে সংসার চলে।’

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রোস্তম আলী বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মরিচ বীজ দেয়া না হলেও মরিচ চাষের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জেলা জুড়ে প্রতিবছর মরিচের আবাদ বৃদ্ধিও পাচ্ছে। এখানকার মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে এবং কৃষকরা দামও ভালো পাচ্ছেন।’

সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী হাট ও ফুলছড়ির মরিচ হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সরব বাজার। প্রতিবছর এখানে প্রতি হাটবারে ৭০০ থেকে ৮০০ মণের বেশি শুকনা মরিচ কেনাবেচা হয়ে থাকে। বগুড়া, ঢাকা, রংপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মরিচ কিনে নিয়ে যান এখান থেকে।

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে এখন শুধু মরিচের ফলনই হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার নতুন ইতিহাস। এক সময়ের মঙ্গাপীড়িত চরাঞ্চলের এই জনপদ এখন মরিচ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছে। চরের বালুচরে লাল মরিচের গালিচা যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি তা হয়ে উঠেছে কৃষকের ভাগ্য বদলের নতুন স্বপ্ন।

জনবল নিয়োগ দেবে নগদ, আবেদন শেষ ১৬ মার্চ
  • ০৯ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে নৌবহর পাঠাবে ফ্রান্স
  • ০৯ মার্চ ২০২৬
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও নাগরিক উদ্যোগে ‘ঈদ আনন্দ মিছিল’
  • ০৯ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি সংকটে জরুরি ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, খোলা থাকব…
  • ০৯ মার্চ ২০২৬
ইমির মুক্তির দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ
  • ০৯ মার্চ ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই ওয়ান ব্যাংক নেবে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাপোর্ট অফি…
  • ০৯ মার্চ ২০২৬