শার্শায় আমের মুকুলে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় হাজারো চাষি

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০ PM
শার্শায় আমের মুকুলে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় হাজারো চাষি

শার্শায় আমের মুকুলে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় হাজারো চাষি © টিডিসি ফটো

মুকুলে ভরা আম্রকাননে নেমেছে ঋতুরাজের নীরব উৎসব। সোনালি-সবুজ আভায় মোড়া ডালপালা আর মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর চারপাশ যেন জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। প্রকৃতির এই রঙিন আয়োজনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরের শার্শা উপজেলায় এখন জেগে উঠেছে নতুন প্রত্যাশা। আম গাছের ডালে ডালে ফুটেছে মুকুল, আর সেই সুবাসে ভরে উঠেছে গ্রামবাংলার পথঘাট। বসন্তের আগমনী সুরে কৃষকের চোখে ভাসছে সম্ভাব্য সমৃদ্ধির স্বপ্ন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক বাগান থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনার গাছেও ব্যাপকভাবে মুকুল এসেছে। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে তুলনামূলক বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মৌমাছির আনাগোনা ও কোকিলের কুহুতানে মুখর হয়ে উঠেছে বাগান এলাকা। দেশি জাতের পাশাপাশি এখানে হিমসাগর, আম্রোপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, বুম্বাই, কাটিমন ও বারি জাতের আমের চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হচ্ছে এবং নিবন্ধিত আমচাষির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে হিমসাগর ৩৩৭ হেক্টর, আম্রপালি ২১৫ হেক্টর, ল্যাংড়া ও গোপালভোগ প্রত্যেকে ১৫৫ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৬০ হেক্টর, মল্লিকা ৩৫ হেক্টর, বুম্বাই ৫৯ হেক্টর, কাটিমন ৯ হেক্টর, বারি-৪ ২০ হেক্টর, বারি-১১ ১ হেক্টর এবং দেশি জাতের আম রয়েছে ৩৪ হেক্টর জমিতে। যশোর জেলার শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয়ে থাকে।

উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে রয়েছে। কুয়াশা বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় গাছে স্বাভাবিকভাবে মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পোকার আক্রমণও দেখা যায়নি। সামনে যদি ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হয়, তাহলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেক চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, এবার গাছের অবস্থা বেশ ভালো। আমরা নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। মুকুলের পরিমাণ দেখে মনে হচ্ছে ফলন সন্তোষজনক হবে। আবহাওয়া সহায়ক থাকলে আশা করি ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, এ অঞ্চলের দোআঁশ মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। ফলে গাছে মুকুলের পরিমাণ সন্তোষজনক। তবে ছত্রাকজনিত রোগ বা হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সে বিষয়ে চাষিদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শার্শায় আমের বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। মুকুলের এই সুবাস তাই শুধু প্রকৃতির রূপ নয়, হাজারো কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্…
  • ২০ জুলাই ২০২৬