শার্শায় আমের মুকুলে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় হাজারো চাষি

শার্শায় আমের মুকুলে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় হাজারো চাষি

শার্শায় আমের মুকুলে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় হাজারো চাষি © টিডিসি ফটো

মুকুলে ভরা আম্রকাননে নেমেছে ঋতুরাজের নীরব উৎসব। সোনালি-সবুজ আভায় মোড়া ডালপালা আর মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর চারপাশ যেন জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। প্রকৃতির এই রঙিন আয়োজনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরের শার্শা উপজেলায় এখন জেগে উঠেছে নতুন প্রত্যাশা। আম গাছের ডালে ডালে ফুটেছে মুকুল, আর সেই সুবাসে ভরে উঠেছে গ্রামবাংলার পথঘাট। বসন্তের আগমনী সুরে কৃষকের চোখে ভাসছে সম্ভাব্য সমৃদ্ধির স্বপ্ন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক বাগান থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনার গাছেও ব্যাপকভাবে মুকুল এসেছে। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে তুলনামূলক বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মৌমাছির আনাগোনা ও কোকিলের কুহুতানে মুখর হয়ে উঠেছে বাগান এলাকা। দেশি জাতের পাশাপাশি এখানে হিমসাগর, আম্রোপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, বুম্বাই, কাটিমন ও বারি জাতের আমের চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হচ্ছে এবং নিবন্ধিত আমচাষির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে হিমসাগর ৩৩৭ হেক্টর, আম্রপালি ২১৫ হেক্টর, ল্যাংড়া ও গোপালভোগ প্রত্যেকে ১৫৫ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৬০ হেক্টর, মল্লিকা ৩৫ হেক্টর, বুম্বাই ৫৯ হেক্টর, কাটিমন ৯ হেক্টর, বারি-৪ ২০ হেক্টর, বারি-১১ ১ হেক্টর এবং দেশি জাতের আম রয়েছে ৩৪ হেক্টর জমিতে। যশোর জেলার শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয়ে থাকে।

উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে রয়েছে। কুয়াশা বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় গাছে স্বাভাবিকভাবে মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পোকার আক্রমণও দেখা যায়নি। সামনে যদি ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হয়, তাহলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেক চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, এবার গাছের অবস্থা বেশ ভালো। আমরা নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। মুকুলের পরিমাণ দেখে মনে হচ্ছে ফলন সন্তোষজনক হবে। আবহাওয়া সহায়ক থাকলে আশা করি ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, এ অঞ্চলের দোআঁশ মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। ফলে গাছে মুকুলের পরিমাণ সন্তোষজনক। তবে ছত্রাকজনিত রোগ বা হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সে বিষয়ে চাষিদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শার্শায় আমের বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। মুকুলের এই সুবাস তাই শুধু প্রকৃতির রূপ নয়, হাজারো কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামের যেসব এলাকায় ঈদ শুক্রবার
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
স্কুলের নামে ভুয়া পেজ খুলে ছাত্রীর ভিডিও প্রকাশের পর মরদেহ …
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ শনিবার
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল মালয়েশিয়া
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
সংযম থেকে আনন্দ: ঈদকে যেভাবে দেখছেন পবিপ্রবিয়ানরা
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ড. ইউনুসকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence