শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন জমি গবেষণার কাজে ব্যবহারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেবেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেবেন তাঁরা। এ কর্মসূচি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) শেকৃবির গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এতে কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ৮৬.৯২ একরের ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও গবেষণার জায়গার সংকট রয়েছে। কৃষি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ব্যবহারিক গবেষণার পরিধি বাড়াতে ক্যাম্পাসসংলগ্ন পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি মাঠপর্যায়ের ব্যবহারিক গবেষণা। নতুন জাত উদ্ভাবন এবং ফসলের রোগবালাই নিয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি পাওয়া গেলে এ সংকট অনেকটাই দূর হতো। সেখানে প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভীর আহমেদ বলেন, ‘এটি সাধারণ কোনো জমির আন্দোলন নয়, এটি কৃষি শিক্ষার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।’ তিনি বলেন, গবেষণাগারের পাশাপাশি ব্যবহারিক কাজের জন্য উন্মুক্ত জমি অত্যাবশ্যক। শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
আরেক শিক্ষার্থী সৈয়দ নাজমুল আলম বলেন, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকাজের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কৃষি ও কৃষি গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় নির্মিত হলে পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়তে পারে এবং পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হবে। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শেরেবাংলা নগরের মতো ব্যস্ত এলাকায় সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্মিত হলে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশার নান্দনিকতা, সবুজ পরিবেশ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পনাটি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এর আগে, ২০১৫ সালে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান। পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ (Take Back SAU Land) শীর্ষক কর্মসূচি পালন করে মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।