বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অত্যাবশ্যকীয় ভাতার আওতা থেকে খামার ব্যবস্থাপনা শাখার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসে সংস্থাপন শাখার এক কর্মকর্তাকে অশালীন ভাষা, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও সংশ্লিষ্ট কমিটি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন খামার ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান রেফি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি দাবি করে দুই দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন খামার ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক। প্রশাসনিক কাজে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তার অপারদর্শিতা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি। অত্যাবশ্যকীয় চাকরি হিসেবে চিহ্নিত খামার ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অত্যাবশ্যকীয় তালিকা থেকে বাতিল করায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর পাল্টা আবেদন করবেন বলে জানান তিনি।
সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, খামার ব্যবস্থাপনা শাখার কয়েকজনের নাম অত্যাবশ্যকীয় সুবিধার তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে জিয়াউর রহমান রেফি প্রথমে ফোনে এবং পরে বিকেলে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট কমিটি, কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। এ ধরনের আচরণের কারণে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তারা দুই দিনের (১ সেপ্টেম্বর ও ২ সেপ্টেম্বর) কর্মবিরতির সিদ্ধান্তের কথাও জানান অভিযোগপত্রে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডিশনাল রেজিস্ট্রার ড. মো. নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘ঘটনার সময় রেজিস্ট্রার ঢাকায় থাকায় আমি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলাম। বিকালের দিকে পাশের কক্ষ থেকে উচ্চস্বরে কথা বলার শব্দ শুনে সেখানে যাই। গিয়ে জিয়াউর রহমান রেফিকে সংস্থার শাখার কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন লিটনের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও কটু ভাষায় কথা বলতে দেখি। পরে আমি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনি। সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যে আদেশ আসে, রেজিস্ট্রার কার্যালয় তা বাস্তবায়ন করে। কোনো শাখায় জরুরি জনবলের প্রয়োজন হলে লিখিতভাবে জানানো যেতে পারে এবং প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কমিটি ও কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। এটার জন্য একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আরেকজন কর্মকর্তার অশালীন ভাষায় কথা বলা বা গালিগালাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শাখাপ্রধান যদি অন্য কর্মকর্তার সঙ্গে এরকম আচরণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতিকে নিয়ে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। প্রশাসনের কাছে আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খামার ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান রেফি বলেন, ২০১৬ সালে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের মাধ্যমে খামার ব্যবস্থাপনা শাখার দুজন কর্মকর্তা ও তৃতীয় শ্রেণির ৫ জন কর্মচারীকে অত্যাবশ্যকীয় ভাতা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই আদেশ অনুযায়ী তারা এতদিন সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শাখার পরিচালককে কোনোরকম চিঠি না দিয়েই আজ হঠাৎ এ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরাতন আদেশ আজ থেকে আর কার্যকর হবে না এমন কোনোকিছু নতুন আদেশে উল্লেখ করা হয়নি। যে কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট শাখায় চিঠি পাঠানো। তারা চিঠি পাঠালে সেটির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অফিশিয়াল চিঠি পাঠাতে পারতাম। আগের সিন্ডিকেট অনুমোদন কেন বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে তাকে কোনো চিঠি দেওয়ার হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খামার ব্যবস্থাপনা শাখায় অত্যাবশ্যকীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রয়োজনীয় নিয়ে তিনি বলেন, এই শাখায় ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। ধান রোপণসহ বিভিন্ন মৌসুমে প্রতিদিন কাজ করতে হয়। অত্যাবশকীয় ভাতার সুবিধা থেকে শাখার কর্মীদের বাদ দিলে ছুটির দিনে কাজ পরিচালনা করা কঠিন হবে। কর্মচারীরা মাঠে কাজ থাকলেও ছুটির দিনে আর আসবেন না।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ড. হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আগের সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেট অনুমোদিত ছিল এবং সংশ্লিষ্টরা এত দিন সেই সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। আগের আদেশ বাতিল বা আর বহাল থাকবে না এমন কিছু নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। আগের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হলে প্রতিবেদনে বা আদেশে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। কোনো কর্মকর্তা যদি মনে করলে যে কোনো সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বা তার শাখা বঞ্চিত হচ্ছে, তাহলে রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে পারেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কমিটি বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কর্মকর্তা কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিকভাবে প্রতিকার চাইতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বা নিজ নিজ কার্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো আচরণ করা যাবে না।
কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্তের বিষয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, বিষয়টির বিচার না হওয়া অবস্থায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা মতামত ছাড়া একতরফাভাবে কর্মবিরতিতে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মবিরতি বিধিবহির্ভূত হতে পারে এবং এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।