শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে পাঠিয়ে বাইরে অপেক্ষায় হাজারো অভিভাবক © টিডিসি ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গুচ্ছভুক্ত দেশের ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় ইবির ৮টি ভবনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ইবি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ৯ হাজার ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর।
তবে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদেরও ছিল অন্যরকম নীরব এক যুদ্ধ। আদরের সন্তানকে পরীক্ষার হলে পাঠিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নিয়ে বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো অভিভাবক। অধিকাংশ পরীক্ষার্থী ই শেষ ভরসা হিসেবে গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন। কেননা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘ এক যুগের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাওয়া সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে তাদের ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিলেন অভিভাবকরা। কারও সঙ্গে এসেছেন মা, কারও সঙ্গে এসেছেন বাবা, আর কারও সঙ্গে এসেছেন ভাই-বোন বা অন্য কেও।সন্তানদের পরীক্ষার হলে পাঠিয়ে অভিভাবক কর্ণার সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করছেন অগণিত অভিভাবক।
সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের আশপাশে, থানা গেটের বিশ্রামাগার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর, ডায়না চত্বর, ঝালচত্বর, খেলার মাঠ, বটতলা প্রাঙ্গণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে গাছপালার ছায়ায় অভিভাবকদের উপস্থিতি প্রবলভাবে লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য বসার বন্দোবস্ত থাকলেও অনেকেই সময় কাটিয়েছেন একান্ত নিরিবিলিতে, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে। তবে ভ্যাপসা গরম অনেকটাই কাহিল করে তুলেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
এসব স্থান ঘুরে দেখা যায়, অভিভাবকদের চোখে-মুখে চিন্তার ভাজ। বেশিরভাগ অভিভাবকের সন্তানেরই এটাই শেষ ভর্তি পরীক্ষা। দূরদূরান্ত থেকে আসা অভিভাবকদের কেউ একে অপরের সঙ্গে গল্প করছেন আবার কেউ পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। কয়েকজনকে দেখা যায় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে। চেষ্টা করছেন গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে ফ্যানের সামনে অথবা কোন গাছের ছায়ায় একটু বসার জায়গা পেতে। তবে সবকিছু ভুলে সন্তানের সফলতার স্বপ্ন দেখছেন অভিভাবকরা, দেখে মনে হচ্ছে সম্ভব হলে অভিভাবকরা নিজেরাই যেন সন্তানের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দিতেন।
অভিভাবক কর্নারে মাগুরা থেকে আসা এক অভিভাবক বলেন, আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে এসেছি। এর আগে বড় মেয়েও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস থেকে পড়াশোনা করে পাশ করে বেরিয়ে গেছে। যদি আল্লাহ কপালে রাখে তাইলে ছোট মেয়েকেও এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ানোর ইচ্ছা আছে। এখন ও তোর মত প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন জানিনা ভাগ্যে কি আছে ।
মেহেরপুর থেকে আসা নাঈম আশরাফ নামক এক অভিভাবক বলেন, আমি আমার ছোট বোনকে নিয়ে এসেছি। সে শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলো দীর্ঘদিন তাই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেনি। এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়েছে কিন্তু রেজাল্ট আশানুরূপ হয়নি। আজ গুচ্ছে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছি। যদি আল্লাহ চান্স পাওয়ায় দেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ নইলে সেকেন্ড টাইম প্রস্তুতি নিতে হবে। এছাড়া তো কোন উপায় নেই।
প্রসঙ্গত, এ বছর গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বরাবরের মতো ইবি কে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মানবিক শাখাভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ সি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১০ এপ্রিল 'এ' (বিজ্ঞান) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।