মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালাতেই অসংগতি

২১ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:১১ AM , আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৩:১৬ PM
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী © সংগৃহীত

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল (এমবিবিএস) ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) প্রণীত নীতিমালায় অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৯ জানুয়ারি) এ ফল প্রকাশ করার পর বিষয়টি নজরে আসে। এরপরই এটা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ভর্তি পরীক্ষায় কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভও করেছেন শিক্ষার্থীরা।

যদিও কোটা বিষয়ে ভুলের দায় নিচ্ছে না চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএমডিসি। তাদের ২০২৪ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, মেডিকেল ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল ২ শতাংশ। তবে এবার  উল্লেখ করা হয়েছে ৫ শতাংশ।

২০২৫ সালের পরীক্ষার জন্য গত ২১ ডিসেম্বর বিএমডিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নীতিমালার ৯.১.১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখের স্মারক অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য মোট আসনের ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকিবে। তবে এই কোটার আসন শূন্য থাকিলে সাধারণ মেধা তালিকা হইতে মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে এই কোটার আসন পূরণ করা যাইবে।’ 

গত বছরের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে এই আন্দোলন অভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটায়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলন শুরু হলে ২১ তারিখ আপিল বিভাগ রায় দেন, সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে।

আরও পড়ুন: ৭০ নম্বর পেয়ে চান্স হলো না মেডিকেলে, কোটায় ৪১ পেয়েও সুযোগ

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ২ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়। দেখা গেছে, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিধি আর মেডিকেল ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিধি এক। আদতে চাকরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোটার এই প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে মেডিকেলে ভর্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

কোটায় ভর্তি নিয়ে জানতে চাইলে গত রবিবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কতজন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন, তাদের প্রাপ্ত নম্বর কত—সেগুলো খোঁজ নিতে হবে। এমন হওয়ার কথা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৫ হাজার ৩৮০টি আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যার জন্য ২৬৯টি এবং পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য ৩৯টি আসন সংরক্ষিত। মুক্তিযোদ্ধা কোটার ২৬৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩ ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর তুলতে পেরেছেন। যারা পাস নম্বর তুলতে পেরেছেন, তাদের সবাই সরকারি মেডিকেলে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধার বাকি আসনগুলো মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেডিকেল ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চান্স পাওয়া নাতি-নাতনিরা বাদ পড়বেন

নতুন নীতিমালায় বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত আলীর সই রয়েছে। নতুন বিধিমালায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫ শতাংশ কেন করা হলো—জানতে চাইলে লিয়াকত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএমডিসির প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক মিটিং করে নতুন বিধিমালা করা হয়েছে। কোটা ৫ শতাংশ কেন করা হলো, সে বিষয়ে এখন বলতে পারব না। কারণ সেই মিটিংয়ে আমি ছিলাম না।’

এদিকে সোমবার (২০ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক কোটা প্রথার নিরসন এবং মেডিকেল ভর্তির ফলাফল পুনঃপ্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। তারা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল করে পুনরায় প্রকাশের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনার কারণে কোটা বহাল রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের কিছু করার নেই।’

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চান্সপ্রাপ্তদের মধ্যে নাতি-নাতনি কোটায় অনেকে আবেদন করেছেন জানিয়ে এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ব্যতীত কোটায় কেবলমাত্র মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনার সন্তানরা ভর্তির সুযোগ পাবেন। মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা বাদ পড়ে যাবেন। এজন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চান্স প্রাপ্তদের তথ্য যাচাই করা হবে। এই তথ্য প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ যাচাই করে থাকে। তবে এবার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি টিম তথ্য যাচাই করবেন। ফলে খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

আরও পড়ুন: মেডিকেলে প্রথম হবো স্বপ্নেও ভাবিনি: সুশোভন বাছাড়

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য হওয়া আসনগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন বলেন, ফাঁকা হওয়া আসনগুলো মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে। এজন্য শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের একটু ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সারাদেশে একযোগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬১ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ হাজার ৯৫ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।  

পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ২২ হাজার ১৫৯ জন যা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। উত্তীর্ণ মেয়ে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭ হাজার ৯৩৬ জন যা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর ৬৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

লাজ ফার্মায় চাকরি, পদ ১২, আবেদন এইচএসসি পাসেই
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
রিনা তালুকদারসহ ৮ বহিষ্কৃত নেতাকে দলে ফেরাল বিএনপি
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ডিএমপির স্পেশাল আদালতে এক মাসে ৪ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ইসিতে দ্বিতীয় দিনের প্রথমার্ধে আপিল শুনানি বৈধ ঘোষণা ২৭, বা…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হলে কী করবে ইংল্যান্ড?
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নতুন প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা বিসিবির
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9