ঢাবিসহ ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া রিয়াদের গৎবাঁধা রুটিন ছিল না, পড়তেন ১২-১৩ ঘণ্টা

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ AM , আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ AM
রিয়াদ হোছাইন

রিয়াদ হোছাইন © টিডিসি সম্পাদিত

ছোটবেলা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পড়ার স্বপ্ন দেখতেন রিয়াদ হোছাইন। তবে দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে গ্রামের পরিবেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে, তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছেন রিয়াদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ৪৯তম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে প্রথম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে তৃতীয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ১৫তম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ই’ ইউনিটে ২২তম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ৫৯তম স্থান অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত।

ইন্টারমিডিয়েটের দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন এই শিক্ষার্থী। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, প্রতিদিন গড়ে ১২-১৩ ঘণ্টা পড়াশোনা, ইংরেজির মুখস্থনির্ভর অংশে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়াই ছিল তার সাফল্যের অন্যতম কৌশল। প্রস্তুতির পথে হতাশা এলেও থেমে যাননি তিনি। বরং সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্য অর্জনের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনার কৌশল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন এই শিক্ষার্থী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মিসবাহুর রশীদ মাসুম।

আপনার সাফল্যের খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল? প্রথম কাকে জানিয়েছিলেন?
ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। তবে গরিব কৃষকের সন্তান হয়ে গ্রাম থেকে পড়ে ঢাবিতে পড়ব, এটা কল্পনাই করতে পারতাম না। তবুও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমি ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ ভালো দিয়েছিলাম। এটা নিশ্চিত ছিলাম যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে আমি ইনশাআল্লাহ চান্স পাব। তবে মেরিট পজিশন নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। মেরিট পজিশন কত হতে পারে এবং আমি আমার পছন্দের সাবজেক্ট পাব কি না, তা নিয়ে মোটামুটি অনেক চিন্তিত ছিলাম।

ঢাবির রেজাল্ট নিয়ে কর্তৃপক্ষ অনেক গড়িমসি করেছিল, যেটা আমার দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। অবশেষে রাত ১০টায় রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। আইডি লগইন করার পর দেখি, আমার মেরিট পজিশন ৪৯। আমি আমার রেজাল্ট দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম, যদিও আমার প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। আমি প্রথমেই আমার আব্বু-আম্মুকে জানাই। তারাও আমার রেজাল্ট শুনে খুব খুশি হয়েছিলেন। তারপর একে একে সবাইকে জানাই। ওই দিন রাতে আমি এতটাই এক্সাইটেড ছিলাম যে রাতে আর ঘুমাতে পারিনি।

আরও পড়ুন: বাবাকে না জানিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি, বাজিমাত মৈত্রীর

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কত দিন আগে থেকে শুরু করেছিলেন? কীভাবে প্রস্তুতির পরিকল্পনা করেছিলেন?
সত্যি বলতে, আমি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করি ইন্টারমিডিয়েট থেকেই। সেকেন্ড ইয়ারে ওঠার পর থেকেই মোটামুটি পড়াশোনার পাশাপাশি এডমিশন প্রস্তুতি নিতে থাকি। তখন আমার মূল পরিকল্পনা ছিল, বিগত বছরের প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করে যেসব টপিক সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো কয়েকবার করে শেষ করতে হবে। আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার এই বিষয়টি আমাকে এডমিশনের সময় একটি গোছানো ও মজবুত প্রস্তুতি নিতে অনেক সাহায্য করেছিল। প্রকৃতপক্ষে যারা মেধাবী ও পরিশ্রমী, তারা আগে থেকেই প্রিপারেশন নিয়ে থাকে।

No Image Found

প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন? আপনার দৈনন্দিন পড়ার রুটিন কেমন ছিল?
আমি বেশি পড়তে অনেক ভালোবাসতাম। ছোটবেলা থেকেই বেশি পড়াশোনায় অভ্যস্ত ছিলাম। তাই এডমিশনের সময় কোনোভাবেই সময় অপচয় করিনি। দৈনিক গড়ে ১২-১৩ ঘণ্টা পড়া হতোই। তবে কে বেশি পড়ছে আর কে কম পড়ছে, তার ওপর নির্ভর করে না তার প্রস্তুতি কেমন হবে। কেউ কম পড়েও তার পড়া সুন্দর করে কয়েকবার শেষ করতে পারে। তাই এসব বিষয় নিয়ে কখনোই চিন্তা করিনি।

তবে বেশি পড়তে গিয়ে আবার অসুস্থ হওয়া যাবে না। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবারও খেতে হবে, যেন শরীরে সব সময় এনার্জি থাকে। পড়ার রুটিন বলতে আমি কোনো গৎবাঁধা রুটিন অনুসরণ করতাম না। তবে প্রতিদিন সবগুলো সাবজেক্ট পড়া হতো। কখনো কখনো কোনো একটি বিষয়ে অনেকটা সময় দিয়ে বেশ এগিয়ে রাখতাম। আর যেগুলোতে একটু সমস্যা ছিল, সেগুলোতে বেশি সময় দিয়েই পড়েছি। প্রতিটি বিষয়ে ভারসাম্য রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

আপনার প্রস্তুতিতে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে? কোচিংয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা করতেন কি না?
আমি সব সময় নিজের ওপরই বিশ্বাস রাখতাম। শুধু কোচিংয়ে গিয়ে পড়লেই যে ভালো প্রস্তুতি হয়ে যাবে, এটা আমি বিশ্বাস করতাম না। কেননা, কোচিংয়ে যত ভালো করেই পড়ানো হোক না কেন, নিজে একটু গোছানো প্রিপারেশন না নিতে পারলে এডমিশনে ভালো করা যায় না। তবে সব সময়ই আমি বেশি বেশি পড়ে কোচিং থেকে এগিয়ে থাকতাম। নিজে একটি বিষয় পড়ার পর আবার কোচিংয়ে পড়লে সেই পড়াটি সবচেয়ে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই পদক্ষেপটি আমার এডমিশন জার্নিতে সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে কোন ধরনের অংশে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
আমি যেহেতু কমার্সের ছিলাম, তাই আমাদের ভর্তি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান। ইংরেজিতে যেহেতু আলাদা মার্ক ছিল, তাই এটি সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ কারণে পড়াশোনার অধিকাংশ সময় ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ব্যয় করেছি। কখনোই কোনো কিছু না বুঝে পড়িনি। বেসিক থেকেই সবকিছু পড়েছি। এডমিশনে যেহেতু একটু অড টাইপের প্রশ্ন হয়ে থাকে, তাই প্রতিটি টপিকের ওপরই বেসিক পুরোপুরি পরিষ্কার থাকতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে? সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আমার কাছে ইংরেজি বিষয়ের মেমোরাইজিং পার্টটি সবচেয়ে বেশি বোরিং ও কঠিন মনে হয়েছিল। পড়তে মন চাইত না। পড়লেও বেশি সময় মাথায় ধরে রাখা অনেকটা কঠিন ছিল। কিন্তু ঢাবির ‘সি’ ইউনিটে মেমোরাইজিং পার্টটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই এটিকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।

তবুও অনেক কষ্ট করে এবং কিছু কৌশল অবলম্বন করে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলাম। আমি মেমোরাইজিং পার্টটি পড়ার সময় সঙ্গে সঙ্গে মুখস্থ করার চেষ্টা না করে কয়েকবার শুধু রিডিং পড়ে গিয়েছি এবং বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালো করে সমাধান করেছি। এতে আমার ৬০-৭০ শতাংশ আয়ত্তে চলে যেত। তারপর আবার দুই-তিনবার রিভিশন দিলেই মোটামুটি ভালো করেই আয়ত্ত হয়ে যেত।

পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল?
পরীক্ষার হলে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সঠিকভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে না পারলে অনেক সহজ প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী সময়ে দেওয়া যায় না। তাই আমি পরীক্ষার হলে সময়ের প্রতি খুবই সচেতন ছিলাম। আমি প্রথমেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পারতাম, সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। এতে আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে যায়। 

আর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় প্রথম দেখাতেই যেগুলো পেরেছি, সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। এতে সময় অনেকটা কম লাগত। পরবর্তী সময়ে যেগুলোতে একটু সন্দেহ থাকত, সেগুলো ভেবেচিন্তে উত্তর করার চেষ্টা করতাম। এতে সময়ের যেমন সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, তেমনি ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কম থাকে। 

প্রস্তুতির সময় কখনো হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল? হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছেন?
মাঝেমধ্যে পড়তে গিয়ে অনেক হতাশাগ্রস্ত হয়েছি। সব সময় মনে হতো, এত এত মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে আমি কি চান্স পাব? আবার কোনো বিষয় পড়তে গিয়ে বুঝতে না পারলেও অনেক চিন্তিত হতাম। মনে হতো, আমি হয়তো চান্স পাব না।

আরও পড়ুন: ৪ বছর আগে বন্ধ হওয়া দোকান থেকে আলমারি ক্রয়, পৌনে এক লাখ টাকার আসবাবপত্রের দেখা মিলল না একটিরও

বেশি হতাশা কাজ করলে কোচিংয়ের পরিচালক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতাম। তারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে আমাকে অনুপ্রাণিত করতেন। হতাশা কাজ করলেও আমি থেমে থাকিনি। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে একাগ্রচিত্তে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি। এতে নিজের প্রতি বিশ্বাস অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল, আমি ইনশাআল্লাহ অবশ্যই চান্স পাব এবং খুব ভালো ফলও করব।

আপনার সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের ভূমিকা কতটা ছিল?
আমার সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের ভূমিকা অপরিসীম। আব্বু-আম্মু সব সময় আমাকে মানসিকভাবে সমর্থন করতেন। যখন যেটা লাগত, তখনই সেটা এনে দিতেন। সব সময় আমার খেয়াল রাখতেন। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তারা আমাকে সঙ্গ দিয়েছেন।

শিক্ষকদের ভূমিকা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তাদের কাছ থেকে জীবনে অনেক কিছু শিখেছি। তারা সব সময় আমাকে সমর্থন করেছেন এবং নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন। আমার বন্ধুরাও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। তারা সব সময় আমার পাশে থেকেছে। কোনো সমস্যা হলেই আমাকে সাহায্য করার জন্য ছুটে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগকে পছন্দ করার বিশেষ কারণ কী?
ছোটবেলা থেকেই হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। প্রথম থেকেই বিষয়টি আমার কাছে অনেক সহজ লাগত। সেই থেকেই হিসাববিজ্ঞানের প্রতি একটা টান তৈরি হয়।
আমি স্থির করেছিলাম, আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে চান্স পেতেই হবে। অন্য কোনো বিষয়ে সুযোগ পেলে আমি পড়ব না। সেই দৃঢ়তা থেকেই আজ আল্লাহ তাআলার রহমতে নিজের কাঙ্ক্ষিত বিভাগে পড়তে পারছি।

যারা আগামী বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের প্রস্তুতি নিয়ে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কী?
আমার অনুজদের জন্য বেশ কিছু পরামর্শ রয়েছে। প্রথমত, সময় অপচয় করা যাবে না। এমনিতেই সময় অনেক কম থাকে। তাই সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কখনোই অগোছালোভাবে পড়া যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করে পড়তে হবে। তৃতীয়ত, বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে পড়তে হবে। যেসব টপিক বা অধ্যায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে, সেগুলোতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। চতুর্থত, কখনো হতাশ হওয়া যাবে না। পড়তে গিয়ে নানা ধরনের চিন্তা মাথায় আসবে। সেগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। পঞ্চমত, নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। কখনো আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ষষ্ঠত, যতটা সম্ভব সঙ্গ ও আড্ডা এড়িয়ে চলতে হবে। সপ্তমত, যেসব বিষয়ে দুর্বলতা থাকবে, সেগুলোতে একটু বেশি সময় দিয়ে পড়তে হবে। অষ্টমত, কোনো কিছু না বুঝে পড়া যাবে না। একেবারে বেসিক থেকে বুঝে পড়তে হবে। নবমত, বেশি বেশি পরীক্ষা দিতে হবে। এর মাধ্যমে নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা যায় এবং প্রস্তুতিও মজবুত হয়। দশমত, অতিরিক্ত বই পড়ার দরকার নেই। ভালো মানের একজন লেখকের একটি বই ভালোভাবে পড়লেই হয়। একাদশত, মোবাইল ফোন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। দ্বাদশত, অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা কখনোই করা যাবে না। নিজের মতো করে শুধু পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, অন্যের সঙ্গে তুলনা মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীকে যদি মাত্র তিনটি পরামর্শ দেন, সেগুলো কী হবে?
আমি যদি অনুজদের তিনটি পরামর্শ দিতে চাই, সেগুলো হবে—প্রথমত, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও কৌশলগত প্রস্তুতি। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অগোছালোভাবে না পড়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী বেসিক থেকে বুঝে পড়তে হবে।

দ্বিতীয়ত, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখা। কখনো হতাশ হওয়া যাবে না কিংবা অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা যাবে না। অপ্রয়োজনীয় চিন্তা, আড্ডা ও মোবাইল ফোন এড়িয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

তৃতীয়ত, নিয়মিত অনুশীলন ও আত্মমূল্যায়ন। অতিরিক্ত বইয়ের পেছনে না ছুটে নির্ভরযোগ্য বই ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। নিয়মিত মডেল টেস্ট দিয়ে নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। মনে রাখতে হবে, বেশি পড়ার চেয়ে কার্যকরভাবে শেখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জাহাজের পতাকা জাল করে ইরানকে সহায়তা, ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধ…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বিএমইউর ল্যাবরেটরি সার্ভিস সেন্টারকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনবল নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে 
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
হৃদরোগীদের পুনর্বাসনে দেশে যুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মডেল
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950