শিক্ষার্থী © ফাইল ফটো
দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। দ্বিতীয় দফায় আরও শক্তিশালী হয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনা। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যেই ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যেই আগামী ২ এপ্রিল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ফলে সংক্রমণের মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নেয়া কতটা যৌক্তিক সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব শেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ (বুধবার) দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১১ হাজার ২৯১ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৪৬ জনে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। এটি পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর। এই অবস্থায় বড় ধরনের জনসমাগম করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে। ফলে যে কোনো ধরনের পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, বিসিএস পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সংক্রমণের হার স্বাভাবিকই ছিল। তবে বিসিএস পরীক্ষার এক সপ্তাহ পার না হতেই সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বলছেন, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি না। এই মুহূর্তে দেশের যে অবস্থা তাতে মেডিকেলের মতো বড় পাবলিক পরীক্ষা নিলে সংক্রমণ আরও বাড়বে। পরীক্ষার কেন্দ্রে আমাদের সঙ্গে আমাদের অভিভাবকরা যাবেন। তারাও সংক্রমিত হবেন। কেন্দ্রের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা গেলে কেন্দ্রের বাইরে স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে মানা হবে। এছাড়া অধিকাংশ ভর্তিচ্ছু গণ পরিবহন ব্যবহার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবেন। ফলে অন্যরাও সংক্রমিত হতে পারেন। সরকার আসলে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছে সেটি আমাদের বোধগম্য না।
এ বিষয়ে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তাওসিব হাসনাইন তারন বলেন, আগামী ২ এপ্রিল বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে না। একদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই সাধারণ মানুষদের জনসমাগম করতে নিষেধ করছে; অপরদিকে তারাই আবার জনসমাগম করতে এত বড় একটা পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে। আমাদের কি তাহলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই।
এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা নিয়েও সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্র পরিদর্শকরা। তারা বলছেন দেশের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এই মুহূর্তে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে যাওয়া উচিত। সেটি না করে উল্টো লক্ষাধিক মানুষের সমাগম করা হচ্ছে। এটি নিশ্চিতভাবেই সংক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। পরীক্ষা পেছালে তেমন একটা ক্ষতি হবে না। তবে পরীক্ষা হলে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই বাড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার একটি কেন্দ্রের পরিদর্শক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরাও সংশয়ের মধ্যে আছি। করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে এখন এত বড় পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে আত্মঘাতী। পরীক্ষা পেছালে হয়তো খুব একটা ক্ষতি হবে না। কিন্তু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সেটি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এর আগে গত সোমবার (২৯ মার্চ) সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস স্বাক্ষরিত ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ১৮ দফার প্রথম দফাতেই বলা হয়েছে, সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করতে হবে। উচ্চ সংক্রমণ যুক্ত এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হলো। বিয়ে/জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব বলেন, এই মুহূর্তে পরীক্ষা পেছানোর সুযোগ নেই। পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেছে। প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়ে গেছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই পরীক্ষা আয়োজন করব।
তিনি আরও বলেন, করোনার কথা বিবেচনায় এবার পরীক্ষা কেন্দ্রে আইসোলেশন সমৃদ্ধ কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কারো মধ্যে করোনার লক্ষণ থাকলে তাকে আলাদারুমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পরীক্ষার হলে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হবে। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হবে। পরীক্ষার জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, করোনার এমন ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই পরীক্ষা নেয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিষয়। তারা চাইলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।