গুচ্ছ পদ্ধতিতে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান রাখার দাবি ভর্তিচ্ছুদের

২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৪ PM
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিট রাখার দাবিতে ভর্তিচ্ছুদের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিট রাখার দাবিতে ভর্তিচ্ছুদের মানববন্ধন © টিডিসি ফটো

গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে বিভাগ পরিবর্তন করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে তারা এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নটরডেম কলেজ শিক্ষার্থী নাসির, ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থী রাকিব, নরসিংদী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী পাপ্রী, আমেনা আক্তার, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ শিক্ষার্থী জাগিদ প্রমুখ।

এসময় মানববন্ধনে তারা দুইটি দাবি পেশ করেন। তাদের দাবিগুলো হলো: পূর্বের ন্যায় আলাদাভাবে বিভাগ পরিবর্তন; প্রতিটি ইউনিটের সাথে বাংলা, ইংরেজি সাধারণ জ্ঞান রাখতে হবে।

এসময় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, স্বায়ত্তশাসিত ৪৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে আমরা দেখেছি
ইউজিসি একটি চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের ব্যাপারে। আমরা যারা বিভাগ পরিবর্তনের জন্য অনেক আগে থেকে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান পড়ে এসেছি তারা আমাদের জন্য এই বিভাগ পরিবর্তন ইউনিটটি রাখে নাই। যা আমাদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, জবির ভিসি মিজানুর রহমান স্যার প্রথমে বলেছিল আমাদের বিভাগ পরিবর্তন থাকবে। কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর সমুদ্রের মাঝে এসে নিজেদের স্বার্থের জন্য নিজেদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিলেন বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট থাকবেনা। তারা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, তোমরা যে ইউনিটে আছো তোমাদের সেই ইউনিটে পরীক্ষা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেড় বছর ধরে যে শিক্ষার্থী বাংলা ইংরেজি সাধারণ জ্ঞান পড়েছে। তাদের দ্বারা কি সম্ভব তাদের ইউনিটের পরীক্ষা দেওয়া। যদি আমরা দেড় বছর ধরে সাইন্স বা কমার্সের বিষয়ে পড়তাম তাহলে আত্মবিশ্বাস করে বলতে পারতাম যে আমরা চান্স পাবো। আপনারা যারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইন্টার পরীক্ষা হবে না। তখনওতো বলতে পারতেন এবার ভর্তি পরীক্ষায় ডি ইউনিট থাকবে না। কিন্তু এখন কেন বলছেন, যখন আমরা অনেকদুর চলে এসেছি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারাও ডি ইউনিট রাখছে না কিন্তু তারা সেটা এক বছর আগে বলে দিয়েছে। আপনারা সেটা বলতে পারতেন।

আমরা মনে করি এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। শিক্ষা পদ্ধতির এই অনিয়মের প্রতি আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমাদের দাবি মানতেই হবে। আগের মতো করে ডি ইউনিট রাখতে হবে। আপনারা যতদিন আমাদের দাবি না মানবেন, আমরা আন্দোলন করে যাবো। আমরা আমাদের দাবি আদায় করে তারপর রাজপথ ছাড়বো।

হাজেরা আলম রুহানা বলেন, এসএসসি পরীক্ষা যখন হবে না সিদ্ধান্ত হয় তখনই আমরা আমাদের মতো করে ডি ইউনিটের প্রস্তুতি নিতে থাকি। কিন্তু যখন শুনলাম ডি ইউনিট থাকছে না যার কারণে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের প্রস্তুতি অনেকদূর চলে এসেছিল। কিন্তু হুট করে এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের সাথে যারা সেকেন্ড টাইমার রয়েছেন, অথবা যারা অনেকদিন ধরে সেকেন্ড টাইম এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা আসলে কিসের পরীক্ষা দেবেন। তারা তো তাদের ইউনিটে অনেকদিন ধরে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকে দেখা যাচ্ছে পরীক্ষাই দিতে পারবে না। অনেকের জীবনে পড়াশোনা এখানেই সমাপ্তি ঘটবে। তাদের স্বপ্নগুলো এখানেই ইতি টানবে। ছাত্রসমাজ সবসময় তাদের নিজেদের অধিকার দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছে। আজ আমরাও নেমেছি। আমাদের দাবি মানতে হবে।

সাইদুর রহমান সায়েম বলেন, আমরা এখন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। আমাদের এতদিনের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে সেটা আমরা মেনে নিতে পারব না। আমাদের দাবি যদি মানা না হয়, আমরা আরও বড় আন্দোলনে যাব। আমাদের দাবি একটাই গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট চাই।

রাসেল মাহমুদ বলেন, বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট থাকার ঘোষণা দিয়ে শেষ মুহূর্তে একটি অমানবিক সিদ্ধান্ত আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার পর এই মুহূর্তে এসে কিভাবে আমরা আবার নিজেকে প্রস্তুত করব। আমরা যে সময় দেওয়ার কথা পড়ার টেবিলে, সেসময় দিতে হচ্ছে রাজপথে। কেন আমাদের সাথে এমন অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা এই অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নিব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানাই, আপনি আমাদের মতো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে বাঁচান।

এবার মহামারীর কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি তোড়জোর চালালেও বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের মতো পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরইমধ্যে গত ১ ডিসেম্বর ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসে।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের কমিটি গত শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রথম সভা করে। ওই সভায় গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে একযোগে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান- তিনটি গুচ্ছে ১০০ নম্বরের সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা: এবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে সেগুলো হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্বদ্যিালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়। 

সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি-ঘুষের দৌরাত্ম্য, ভুক্তভোগীদের …
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
জীবিকার তাগিদে নদীতে নেমে আর ফেরা হলো না জেলে জসিমের
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
পড়ার টেবিলে হঠাৎ অসুস্থ, না ফেরার দেশে চবি শিক্ষার্থী
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্যালিকাকে ধর্ষণ, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
বদলি আবেদন শুরুর সম্ভাব্য সময় জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে উপজেলায় প্রথম তা’মীর…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬