গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বিপাকে সেকেন্ড টাইমাররা

২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩৮ AM

© প্রতীকী ছবি

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এবার থেকে দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় ও মানবিক-এই তিন ইউনিটে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। এতে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা ইউনিট থাকছে না। 

গত ১৯ ডিসেম্বর গুচ্ছ ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন ও পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা শেষে বলা হয়েছে, ১০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি অনুষ্ঠিত হবে। তবে এতে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা ইউনিট থাকছে না।

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বাদে বাকি স্বায়ত্তশাসিত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী) দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা চালু নেই। ফলে প্রচলিত পূর্বের নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

স্বায়ত্তশাসিত এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট থাকলেও ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় সেটার সুযোগ থাকছে না। এজন্য বিপাকে পড়েছে গত দুই বছর ধরে সেকেন্ড টাইমের প্রস্তুতি নেওয়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় এসব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট বহাল রাখার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তারা কর্মসূচি পালন করছেন।

তাদের কর্মসূচিতে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো, গুচ্ছ পদ্ধতিতে আলাদাভাবে বিভাগ পরিবর্তনের পরীক্ষা নেওয়া; সব ইউনিটে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান রাখা; বিভাগ পরিবর্তনে শুধু বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া।

দিনাজপুর থেকে মুশফিক রায়হান জিহাদ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী বলেন, একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী হিসেবে বিষয়টি নিয়ে হতাশায় ভুগছি। এইসএসসি পরীক্ষার পর থেকেই আর সাইন্সের বই আর খোলা হয়নি। একজন সেকেন্ড টাইমার হিসেবে আমি দুই বছর যাবৎ বাংলা, ইংরেজি আর সাধারণ জ্ঞান পড়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ১৯ বিশ্ববিদ্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এই সিদ্ধান্তে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি, লাখ লাখ ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ একটি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে যেনো চাপা না পড়ে। আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

মাগুরা থেকে অনন্যা মিতু বলেন, গত ১ বছর ধরে বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু যে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে ১৯ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সেটা যেন বাতিল করা হয়। অন্তত এই বছর যেন এটা কার্যকর না করা হয়।

রংপুর থেকে তাসনিমা তিথি বলেন, আমরা আগের নিয়মে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে বিভাগ পরিবর্তন করতে চাই। হঠাৎ করে এমন অযৌক্তিক নিয়ম আমরা মানি না। এমন সিদ্ধান্ত আমাদের মত হাজার হাজার সেকেন্ড টাইমারদের উপর এক প্রকার জুলুম ছাড়া কিছুই না। এতে আমরা মানসিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছি।

ভোলা থেকে মাইশা নিশাত বলেন, বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট আগের মত পূর্ণ বহাল থাকুক। কেননা আমাদের দুই বছর ধরে প্রস্তুতি আছে। এ অবস্থায় হঠাৎ সিদ্ধান্তে ভেঙে পড়েছি। আমাদের পূর্বে নোটিশ দিয়ে জানালে এমন করে স্বপ্ন ভঙ্গ হত না। 

বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট, রংপুর (আন্দোলনকারী) এর পক্ষ থেকে মোঃ ফরহাদ হোসেন তিনটি দাবি তুলে ধরে বলেন, একজন কৃষক পরবর্তী বছর কি ফসল ফলাবে সেতো এক বছর আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন। তাহলে আমাদের ভিসি স্যারেরা কেনো ৩ মাস আগে আমাদের সাইন্সের বই পড়ে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলবে?

বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট পূর্ণবহাল চেয়ে মাগুরা থেকে অতশী রহমান বলেন, একজন সেকেন্ড টাইমার হয়ে প্রথম থেকেই বাংলা, ইংলিশ ও সাধারণ জ্ঞান পড়ে আসছি। সেকেন্ড টাইম এক্সাম দিয়ে ভার্সিটিতে পড়বো এই স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু হটাৎ এই সিদ্ধান্তের ফলে অতিরিক্ত অনেকগুলা সাবজেক্ট পড়তে হবে। তাছাড়া স্বল্প সময়ে এসব কপ্লিট করাও সম্ভব নয়। এখন পুরা স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা ইউনিট থাকছে না। ফলে নিজ নিজ বিভাগ থেকে পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা বিভাগ পরিবর্তন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসন নির্ধারণ করে রাখবে। যেমন বাংলা বিভাগে ১০০ আসন থাকলে তার মধ্যে মানবিকের জন্য ৮০, বাণিজ্য ১০ ও বিজ্ঞানের জন্য ১০টি আসন থাকে।

তিনি বলেন, পরীক্ষার মানবন্টনে মানবিক শিক্ষার্থীদের বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ ও আইসিটি ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিং ২৫, বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ২৫, ভাষা জ্ঞান ২৫, বাংলা ১৩, ইংরেজি ১২ ও আইসিটি ২৫ নম্বরের পরীক্ষা। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ভাষা ২০, বাংলা ১০, ইংরেজি ১০, রসায়ন ২০, পদার্থ ২০, আইসিটি/ম্যাথ/বায়োলজি এই তিনটি থেকে যে কোনো দুটিতে ২০ করে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

তিনি আরও বলেন, কমিটি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি স্কোর দেবেন। এ গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ শর্ত ও চাহিদা উল্লেখ করে শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। স্কোর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।

সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছে যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ট্রাম্পের স্ত্রীকে নিয়ে জিমি কিমেলের মন্তব্যের জেরে লাইসেন্…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রদলনেতাসহ মাদককাণ্ডে হাতেনাতে ধরা পড়ার ৬ মাস পরও নেই শা…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত অন্ত…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রলীগ নেতাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করলেন ঢাবি ছাত্রশক্তির …
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
রুয়েট পরিদর্শন করলেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ডুয়েটে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিট …
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬