আবদুর রহমান নাদিম © সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার আবদুর রহমান নাদিম নামের এক আলিম পরীক্ষার্থী অপহরণ ও অজ্ঞান পার্টির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চলমান আলিম পরীক্ষার তিনটি বিষয়ে অংশ নিতে পারেননি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে থাকায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী আবদুর রহমান নাদিম গত ১৪ জুলাই আসরের নামাজ আদায়ের পর মাদ্রাসা ক্যাম্পাস থেকে টঙ্গী বাজারে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত পর্যন্ত সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরে রাত প্রায় দুইটার দিকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে এক ব্যক্তি তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার কাছে থাকা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট আইডি কার্ড) থেকে অভিভাবকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।
পরিবারের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে অজ্ঞান করে অপহরণ করে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় অচেতন ছিলেন এবং পরে স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান ফিরে পান।
উদ্ধারের পর তাকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। বর্তমানে তিনি ডেমরায় তার বোনের বাসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় বিষয়টি জানিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আভিযোগের আলোকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় আব্দুর রহমান নাদিমের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল নাঈম জানান, এ ঘটনার কারণে আব্দুর রহমান নাদিম ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত আরবি দ্বিতীয় পত্র, ১৬ জুলাই হাদিস এবং ১৮ জুলাই ফিকহ প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে তার শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে তার দাবি।