লেখক ২ শিক্ষার্থী ও বইটির প্রচ্ছদ © টিডিসি সম্পাদিত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূমিকা ও আন্দোলনের নানা ঘটনা তুলে ধরে ‘দ্য রেড জুলাই’ নামে বই প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ২ শিক্ষার্থী। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মোরশেদুল আলম ও আইন বিভাগের নাজিম উদ্দীন যৌথভাবে বইটি লিখেছেন। ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটি বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, প্রতিরোধ, ত্যাগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
জানা যায়, বইটি লেখার শুরুর দিকে দুই লেখক ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করলেও পরে লেখার কাজ এগিয়ে নিতে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। তারা প্রায় দেড় বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন নথি, সংবাদপত্র, জার্নাল ও বই পর্যালোচনা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বইটির পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন।
আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দীন বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবসময় অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী বা কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ না থাকায় তারা নিজেরাই এই উদ্যোগ নেন।
বই লেখার ভাবনা কীভাবে এলো জানতে চাইলে নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘আমার আশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাইয়ের দিনলিপি বা সাময়িকী কিংবা কোনো বই প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সময় যাওয়ার পরও কোনো উদ্যোগ না দেখে মোরশেদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলি। এরপর আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ও আত্মত্যাগকে লিখিতভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিই।’
তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের সমন্বয়ক, সম্মুখসারির শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন জার্নাল, বই ও সংবাদপত্র পর্যালোচনা করে ঘটনাগুলো যাচাই করা হয়েছে। এভাবে প্রায় দেড় বছর কাজ করে বইটির পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোরশেদুল আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের উদ্দেশে বইটি লেখা ও উৎসর্গ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিভক্তির কারণে জুলাইয়ের স্মৃতি ও চেতনা অনেকটা ম্লান হতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে কয়েকটি প্রকাশনীতে যোগাযোগ করেও সাড়া পাননি তারা। অনেক প্রকাশক বইটি প্রকাশে আগ্রহ দেখাননি। পরে ঐতিহ্য প্রকাশনী বইটি প্রকাশে আগ্রহী হয় এবং তাদের সহযোগিতায় বইটি প্রকাশিত হয়।
বইটির পাঠকদের উদ্দেশে দুই লেখক বলেন, ‘স্মৃতি অনেক সময় ধুলোবালিতে ফিকে হয়ে আসে। কিন্তু ইতিহাসের এই রক্তভেজা অধ্যায় যেন হারিয়ে না যায়, সেই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা থেকেই এই লেখনী। আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো তথ্য বা ঘটনা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে থাকলে মার্জনার সঙ্গে বইটি পাঠ করবেন। আশা করি, পাঠকেরা বইটিকে ইতিহাস সংরক্ষণের একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করবেন।’