ভোটগ্রহণ শুরু © সংগৃহীত
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছেে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। জুমার নামাজের জন্য দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি থাকবে।
এবারের নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এক প্যানেলে সভাপতি পদে শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী, অন্য প্যানেলে সভাপতি পদে আরমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে রুমানা ইসলাম মুক্তি নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পদে ১০ জনের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে গত এক মাস ধরে এফডিসি প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রার্থীদের প্রচারণা, সমর্থকদের উপস্থিতি এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
নির্বাচনে জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সভাপতি প্রার্থী শিবা শানু বলেন, শিল্পীদের পাশে থেকে সকলের সমস্যা শুনে কাজ করতে চাই। অপর সভাপতি প্রার্থী আরমান বলেন, সিনিয়র ও জুনিয়র—সব শিল্পীর মতামত নিয়ে কাজ করব এবং শিল্পীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেব।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রুমানা ইসলাম মুক্তি বলেন, নির্বাচিত হলে শিল্পী সমিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই এবং সদস্যদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকব।
অন্যদিকে জয় চৌধুরী জানান, নির্বাচিত হলে সব শিল্পীর মতামতের ভিত্তিতেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবেন। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এক বছর পর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোরও ঘোষণা দেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৫৭৩। তবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্য হতে পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শর্ত থাকলেও এবার সেই নিয়ম শিথিল করে অনেককে সদস্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুটি সিনেমায় অভিনয়কারীদেরও পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এফডিসিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ নজরদারিও রাখা হয়েছে।
এবারের নির্বাচন কমিশনে খোরশেদ আলম খসরুর সঙ্গে রয়েছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশা। আপিল বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন ছটকু আহমেদ, কাজী হায়াৎ ও বাদল খন্দকার।